শনিবার ২২শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

কাঁটাতারের বেড়ায় হত্যা: বিচারের আশায় ৫ বছর

প্রকাশঃ ০৭ জানুয়ারি, ২০১৬

ফেলানী হত্যা: বিচারের আশায় ৫ বছর

ডে= কাঁটাতারের বেড়ায় ফেলানীর ঝুলন্ত লাশের ছবি সে সময় বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলে।

কাঁটাতারের বেড়ায় ফেলানীর ঝুলন্ত লাশের ছবি সে সময় বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলে।

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ফেলানী নিহতের পাঁচ বছর পূর্ণ হয়েছে বুধবার।

ফেলানী হত্যা: ৫ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণের সুপারিশ

ফেলানী হত্যা: ভারতের সুপ্রিম কোর্টে শুনানি ৬ অক্টোবর

বৃহস্পতিবার এই কিশোরীর ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া পার হয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে আসার সময় বিএসএফের গুলিতে তার মৃত্যু হয়।

এ হত্যা মামলার বিচারে অভিযুক্ত ভারতের সীমান্তরক্ষা বাহিনী বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে দুইবার নির্দোষ বলে রায় দেয়। এরপর মানবাধিকার কর্মীদের তৎপরতায় ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আবার মামলা করা হয়। ওই মামলা এখনও বিচারাধীন আছে।

কবরের পাশে ফেলানীর বাবা মা

কবরের পাশে ফেলানীর বাবা মা
দিনটিকে স্মরণ করতে ফেলানীর পরিবার বৃহস্পতিবার মিলাদ মাহফিল ও কাঙ্গালি ভোজের আয়োজন করেছে।

এছাড়া ‘আলোর আশা পাঠশালা’ নামের একটি স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ৭ জানুয়ারিকে ‘সীমান্ত হত্যা প্রতিরোধ দিবস’ ঘোষণার দাবিতে নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে।

ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম সোনারবাংলা ৭১ ডটকমকে বলেন, জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

“ভারতের উচ্চ আদালত মামলা গ্রহণ করায় এখন আমি ন্যায় বিচার পাব বলে আশা করছি।”

তিনি বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে হত্যাকারী উল্লেখ করে তার ফাঁসি দাবি করেন।

এ মামলার পর্যবেক্ষক কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর আব্রাহাম লিংকন বলেন, ফেলানী হত্যা মামলার বিচারে অমিয় ঘোষকে দুইবার নির্দোষ বলে রায় দিলেও গত বছর ১৪ জুলাই ফেলানীর বাবার পক্ষে ভারতের মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ দেশটির সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করে।

“ওই বছর ২৬ অগাস্ট মামলার শুনানি হয়ে পরবর্তী ৬ অক্টোবর পুনরায় শুনানির তারিখ নির্ধারণ করে আদালত। কিন্তু ওইদিন তালিকায় মামলাটি অন্তর্ভুক্ত না থাকায় শুনানি হয়নি।”

তিনি আরও জানান, ভারতের সুপ্রিম কোর্টেই ফেলানী হত্যা মামলার শুনানি ও নিষ্পত্তি হবে। তাই এবার ফেলানীর পরিবার ন্যায় বিচার পাবে বলে প্রত্যাশা সবার।

আলোর পাঠশালার সংগঠক বিশ্বজিত রায়, আব্দুল হামিদ, লিটন চৌধুরী ও জোবায়ের সিদ্দিকী স্বপন জানান, ৭ জানুয়ারিকে ‘সীমান্ত হত্যা প্রতিরোধ দিবস’ ঘোষণার দাবি জানাতে তারা মোমবাতি প্রজ্জ্বালন, মানববন্ধন ও আলোচনা সভার আয়োজন করেছেন।

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি শুক্রবার ভারত থেকে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর অনন্তপুর সীমান্ত দিয়ে বাবার সঙ্গে বাড়ি ফিরছিল কিশোরী ফেলানী।

ভোর সোয়া ৬টার দিকে দালালের মাধ্যমে মই বেয়ে কাঁটাতারের বেড়া পার হওয়ার সময় বিএসএফের গুলিতে তার মৃত্যু হয়।

কাঁটাতারের বেড়ায় ফেলানীর ঝুলন্ত লাশের ছবি সে সময় বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলে।

কাঁটাতারের বেড়ায় ফেলানীর ঝুলন্ত লাশের ছবি সে সময় বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তোলে।
আরও কয়েকঘণ্টা পর বিএসএফ লাশ নামিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে নিয়ে যায়। এরপর ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে ৮ জানুয়ারি শনিবার লাশ ফেরত দেয় বিএসএফ।

বাংলাদেশে আরেক দফা ময়নাতদন্ত শেষে লাশ দাফন হয় মৃত্যুর ৭৩ ঘণ্টা পর।

২০১৩ সালের ১৩ অগাস্ট ভারতের কোচবিহারের বিএসএফের বিশেষ আদালতে বিচারিক কার্যক্রম শুরু করে ভারত সরকার।

১৯ অগাস্ট আদালতে ফেলানীর বাবা নুরুল ইসলাম ও মামা আব্দুল হানিফ সাক্ষ্য দেন। বিচার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন কুড়িগ্রাম ৪৫ বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিয়াউল হক খালেদ এবং কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর আব্রাহাম লিংকন।

ওই বছরের ৬ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত অমিয় ঘোষকে বেকসুর খালাস দেয় আদালত।

ওই রায় প্রত্যাখ্যান করে ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনারের কাছে মানবাধিকার সংগঠন আসকের (আইন ও সালিশ কেন্দ্র) মাধ্যমে ফের বিচার দাবি করেন ফেলানীর বাবা।

এর প্রেক্ষিতে মামলাটি পুনর্বিচারের সিদ্ধান্ত নেয় বিএসএফ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বিচারে অমিয় ঘোষকে আবর খালাস দেয় বিএসএফের ওই বিশেষ আদালত।

এরপর গত বছর ১৪ জুলাই ফেলানীর বাবার পক্ষে ভারতের মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ দেশটির সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করে, যা এখনও শেষ হয়নি।