সোমবার ১৭ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

৪০ কোটি টাকার ইয়াবা আটকের নায়ক কৃষকলীগ নেতা জয়নালসহ আটক ৮

প্রকাশঃ ০৭ জানুয়ারি, ২০১৬

কক্সবাজার : কক্সবাজার উপকূলের গভীর সমুদ্রে এফ,বি ইমন নামের একটি ফিসিং বোটে অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার রাতে ৪০ কোটি টাকার ১০ লক্ষ পিস ইয়াবাসহ একটি ট্রলারসহ ৪ মাঝি-মাল্লাকে আটক করেছে র‌্যাপিড এ্যকশান ব্যাটেলিয়ন র‌্যাব। উদ্ধার হওয়া ইয়াবাগুলোর মোট মূল্য প্রায় চল্লিশ কোটি টাকা। পরে আটক চারজনের দেয়া তথ্যানুসারে র‌্যাব আরও ৪ জনকে আটক করে। আটককৃতরা হলো, উদ্ধারকৃত ইয়াবার মালিক কক্সবাজারের কলাতলীর মাদক ব্যবসায়ী, কলাতলী ডেকোরেটার্সের মালিক ও কক্সবাজার শহর কৃষকলীগ নেতা কলাতলীর মৃত জাফর আলমের ছেলে জয়নাল আবেদীন (২৫)। হিমছড়ি এলাকার আব্দুল গনির ছেলে ও ট্রলারটির মালিক মো. সৈয়দ আলম(৩০), শহরের মহাজের পাড়া এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে মো. রবিউল আলম (২৬)। উখিয়া উজেলার উত্তর পুকুরিয়া বাজাপাড়া এলাকার কামাল উদ্দিনের ছেলে মো. ইসলাম মামুন (২৭), দক্ষিণ কলাতলি এলাকার মো. ফজল হকের ছেলে মো. মফিজ (৩০)।শহরের কলাতলী বটছড়া এলাকার মৃত নাজির হোসেনের পুত্র মো. আব্দুস সালাম মাঝি (৫৫), একই এলাকার মৃত রশিদ তালুকদারের ছেলে মো. শফিক (৩৫), ঝিলংজা বড়াছরা এলাকার আব্দুল করিমের ছেলে আব্দুর রহিম বার্মা (৩০), মায়ানমারের নাগরিক সুলতান আহমেদের ছেলে মো. কামাল (৪২)।
এদর মধ্যে কক্সবাজার শহর কৃষক লীগ নেতা জয়নাল আবেদীন এর বাসা শহরের মোহাজের পাড়ায়। এছাড়া সে শহরের আইবিপি মাঠস্থ মিটি ট্রাক শ্রমীক নেতা। মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে এসব ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।পরে বুধবার দুপুর তিনটায় সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মায়ানমার থেকে ট্রলারযোগে নৌ-পথে ইয়াবার সবচেয়ে বড় চালান আনা হচ্ছে এমন গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজারের কলাতলী পয়েন্টের গভীর সমুদ্রে অভিযান চালিয়ে (এফভি ইমন, এফ- ৯৬৪৩) নামের একটি ফিশিং ট্রলারে তল্লাশি চালায় র‌্যাব সদস্যরা। এসময় ট্রলারটির কোল্ড স্টোর থেকে ১০ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। ট্রলারটির মাঝি ও মায়ানমারের এক নাগরিক সহ চার জনকে আটক করা হয়। মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে মায়ানমারের নাগরিক মো. কামাল (৪২), ট্রলারের মাঝি মো. আব্দুস সালাম (৫৫), মো. শফিক (৩৫) ও আব্দুর রহিম বার্মা (৩০) কে আটক করা হয়।
এদিকে পরবর্তীতে আটক তিনজনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষনিকভাবে নগরীর বহাদ্দারহাট আজমির হোটেলের সামনে থেকে মাদচক্রের অন্য সহযোগী মো. ইসলাম মামুনকে (৭০)আটক করা হয়।
এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয় মাদক পাচারের এই চক্রটি ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে মোট সাড়ে ১৪ লাখ পিস ইয়াবার আরো দুইটি বড় চালান চট্টগ্রামে নিয়ে আসে এবং কক্সবাজার সদর মডেল থানায় জয়নাল আবেদীন ও তার মামাতো ভাই মফিজের বিরুদ্ধে ইয়াবা সংক্রান্ত মাদক মামলা রয়েছে। র‌্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক মিডিয়া এএসপি মিমতানুর রহমান জানিয়েছেন,“কয়েকদিন আগে ত্রান ও দূর্যোগ মন্ত্রনালয়ের পক্ষ থেকে র‌্যাব-৭ কে সমুদ্রে তল্লাশী ও উদ্ধার কাজ চালানোর জন্য একটি অত্যাধুনিক বোট দেওয়া হয়েছে, এই বোট দিয়ে সমুদ্রে অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ বোটটি আটক করা হয়েছে।