বৃহস্পতিবার ২৭শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৪শে জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

বার্সার দুর্দান্ত জয় মেসির হ্যাটট্রি নতুন সব বিস্ময় উপহার দিয়ে যাবেন

প্রকাশঃ ১০ জানুয়ারি, ২০১৬

বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন মেসি ম্যাচের অষ্টম মিনিটে । লা লিগার এই ম্যাচে গ্রানাদাকে ৪-০ গোলে হারাতে অপর গোলটি করেন নেইমার।ব্যবধান বাড়াতেও সময় নেননি মেসি। গোলের কারিগর অবশ্য নেইমার আর সুয়ারেস। নেইমার বাঁ দিক থেকে বল বাড়িয়েছিলেন সুয়ারেসকে। উরুগুয়ের এই তারকা প্রথম ছোঁয়াতেই বল বাড়ালেন মেসিকে। কাছ থেকে কোনাকুনি শটে বল জালে জড়িয়ে দিতে কোনো ভুল হয়নি চার বারের বর্ষসেরা এই ফুটবলারের। ম্যাচের ১৪ মিনিট না যেতেই ম্যাচ মুঠোয় পুরে নিল স্বাগতিকরা।
প্রথমার্ধে এর পর একের পর এক গোলের সুযোগ নষ্ট করে বার্সেলোনা।
ষোড়শ মিনিটে নেইমার বল নিয়ে ঢুকে পড়েছিলেন ডি-বক্সে; তবে শট নিতে পারেননি। আট মিনিট পর সুয়ারেস ডান দিক থেকে বল ডি-বক্সে বাড়িয়েছিলেন। মেসিকে সেবার রুখলেন গ্রানাদার ডিফেন্ডাররা।
তবে ২৭তম মিনিটে পাওয়া সুযোগ থেকে গোলটা করা উচিত ছিল সুয়ারেসের। ডি-বক্সের ভেতর নেইমারের সঙ্গে বল দেওয়া নেওয়া করার পর সুয়ারেসের সামনে ছিল কেবল গোলরক্ষক। এত কাছ থেকেও লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নিলেন লা লিগার এই মৌসুমে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ গোলদাতা!
চার মিনিটে পরই হ্যাটট্রিকের সহজ একটা সুযোগ হারালেন মেসি। ডান দিক থেকে আলেইশ ভিদালের নীচু ক্রসে মেসির শট ঝাপিয়ে পড়ে ঠেকিয়ে দিলেন গোলরক্ষক। দশ বারের মধ্যে নয় বার এমন জায়গা থেকে গোল দিতে পারেন মেসি!
৩৬তম মিনিটে গোল পেতে পারতেন নেইমারও। ডি-বক্সে দারুণ দক্ষতায় বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে গোলরক্ষকের মাথার উপর দিয়ে জালে পাঠাতে চেয়েছিলেন ব্রাজিলের এই ফরোয়ার্ড। বল চলে গেল ক্রসবারেরও উপর দিয়ে।
তিন মিনিট পর বার্সেলোনাকে গোলবঞ্চিত করেন গ্রানাদার দরিয়া। সুয়ারেস-নেইমারের দুর্দান্ত আক্রমণটা তার জন্যই সফল হতে পারেনি। বল ফাঁকায় দাঁড়িয়ে থাকা মেসির কাছে যাওয়ার আগেই বিপদমুক্ত করেন এই ডিফেন্ডার।
বিরতির তিন মিনিট আগে রাকিতিচের বাড়ানো বল থেকে নেইমারের জোড়ালো শট সাইড নেটে লাগে।বিরতির পর বার্সেলোনার গোল আর মেসির হ্যাটট্রিক পেতে বেশি সময় লাগেনি। ৫৮তম মিনিটে সের্হিও রবের্তোর দারুণ বাড়ানো বল ধরে খুব কাছ থেকে শট নিয়েছিলেন নেইমার। বল ফিরে এল বারে লেগে। ফিরতি বল জালে পাঠিয়ে হ্যাটট্রিকটা তুলে নিলেন মেসি।
সব প্রতিযোগিতা মিলে ১০ মাসের বেশি সময় পর হ্যাটট্রিক পেলেন মেসি। তার শেষ হ্যাটট্রিক ছিল ২০১৫ সালের ৮ মার্চ; লিগে রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে এটা তার ৩৬তম হ্যাটট্রিক।
অনেকবার গোলের সুযোগ হারানোর পর ৮৩তম মিনিটে অবশেষে গোল পান নেইমার। তবে গোলের পুরো কৃতিত্বটাই মেসির। বল নিয়ে সামনে এগিয়ে ডানে দানি আলভেসকে পাস দিয়েছিলেন তিনি। এর পর আলভেসের নীচু ক্রস বাড়ালে হেলায় বল ছেড়ে দিলেন তিনি। জানতেন, নেইমার আছে পেছনে। বল পেয়ে এবার আর বারে লাগাননি ব্রাজিল তারকা।

লা লিগায় নেইমারের এটা পঞ্চদশ গোল। সতীর্থ সুয়ারেসের সঙ্গে গোলদাতাদের তালিকায় শীর্ষে আছেন তিনি।