বৃহস্পতিবার ২৭শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৪শে জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে, সেনাবাহিনীর প্রতি প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশঃ ১৪ জানুয়ারি, ২০১৬

শারমীন আক্তার =বৃহস্পতিবার রংপুরে সেনাবাহিনীর শীতকালীন মহড়া শেষে দরবারে প্রধানমন্ত্রী সেনা সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমাদের সবাইকে জনগণের আস্থা, বিশ্বাস ও ভালোবাসা অর্জন করতে হবে।

“জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস ছাড়া কখনোই কোনো যুদ্ধ জয় করা যায় না। তাই আপনাদেরকে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।”

বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুরের পাগলাপীরে সেনাবাহিনীর ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের ব্যবস্থাপনায় ‘ব্রিগেড গ্রুপ আক্রমণ’ মহড়া হয়।

সম্মুখ সমরে শত্রুবাহিনীর হাত থেকে কীভাবে ভূ-খণ্ড উদ্ধার করা হয়, সেই কৌশল দেখান সেনা সদস্যরা।

মহড়া দেখার পর ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের দরবারে বক্তব্য রাখেন সরকার প্রধান।

এই মহড়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্বের স্বাক্ষর বহন করছে বলে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “আমি নিশ্চিত যে, দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় যে কোনো অশুভ শক্তিকে দৃঢ়ভাবে প্রতিহত করতে আমাদের সেনাবাহিনী সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত।

“আপনাদের প্রশিক্ষণের দক্ষতায় বলতে পারি, আপনারা সত্যিকার অর্থেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে ওঠা বাহিনী।”

মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আত্মত্যাগের স্মারক রংপুর সেনানিবাসের ‘রক্তগৌরব’ স্মৃতিসৌধ এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “সকল শহীদের আত্মত্যাগ সেনাবাহিনীর সদস্যদের দেশ রক্ষার দায়িত্বে আরও উজ্জ্বীবিত করবে।”

স্বাধীন বাংলাদেশে সেনাবাহিনী পুনর্গঠনে বঙ্গবন্ধুর নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন তার কন্যা।

১৯৭৪ সালের ১১ বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি প্রতিষ্ঠা করা হয়।

সামরিক বাহিনীর দক্ষতা বৃদ্ধিতে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ পদক্ষেপের কথাও বলেন শেখ হাসিনা।

সেসময় সেনাবাহিনীতে একটি কম্পোজিট ব্রিগেড, একটি পদাতিক ব্রিগেড, স্পেশাল ওয়ার্কস অর্গানাইজেশনসহ একাধিক আর্টিলারি রেজিমেন্ট, রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, পদাতিক সাপোর্ট ব্যাটালিয়ন, ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্স ও ডিভ অর্ডন্যান্স কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করা হয়।

নুতন পে-কমিশন গঠন করে সরকারি চাকরিজীবীদের সঙ্গে সেনাসদস্যদেরও বেতন-ভাতা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “১২৩ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। কোনো সরকারই এত বেতন বৃদ্ধি করেনি।”

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে আধুনিক বিশ্বের উপযোগী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম ও উদ্যোগ নেওয়া বলে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আজ সমকালীন বিশ্বের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ সামরিক বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। এ লক্ষ্যে পেশাগত মানের উৎকর্ষ সাধন এবং সর্বাধুনিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।”

ফোর্সেস গোল-২০৩০ বাস্তবায়নের মাধ্যমে আধুনিক ও চৌকস সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার জন্য তার সরকার বদ্ধপরিকর বলেও তিনি জানান।

১৯৭৪ সালেই প্রতিরক্ষা নীতিতে নির্দেশনা দিয়ে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা নদী সমগ্র দেশকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করেছে, সেনাবাহিনীকেও সেই মোতাবেক সক্ষমতার দিক থেকে স্বতন্ত্র ও প্রশাসনিকভাবে সামর্থ্যবান তিনটি কমান্ডে নিয়োজিত হতে হবে’।

পিতার বক্তব্য উদ্ধৃত করে শেখ হাসিনা বলেন, “ইতিমধ্যে সিলেটে ১৭ পদাতিক ডিভিশন এবং রামুতে ১০ পদাতিক ডিভিশন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।”

বরিশাল আঞ্চলে সেনানিবাস স্থাপনের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

রাজবাড়ী এবং বরিশাল-পটুয়াখালীর লেবুখালীতে সেনানিবাস স্থাপনের কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগে সেনাবাহিনী সবসময় দুর্গত মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে বলে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “উত্তরাঞ্চলের ভূমিহীন জনগোষ্ঠীর জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমেও ৬৬ ডিভিশন একটি মহান দায়িত্ব পালন করছে।

এ প্রশিক্ষণের সময়েও সেনা সদস্যরা শীতবস্ত্র বিতরণ, বিনামূল্যে অস্ত্রোপচার, নানা চিকিৎসা সহায়তা প্রদান এবং অন্যান্য জনহিতকর কাজে নিজেদের সম্পৃক্ত করেছে।

এবারের প্রশিক্ষণেও বিজিবি, আনসার এবং বিএনসিসি ক্যাডেটদের সম্পৃক্ত করায় সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আধাসামরিক বাহিনী ও জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে মাতৃভূমি রক্ষার এ কৌশল আমাদের সেনাবাহিনীর রণকৌশলে এক ভিন্ন ও প্রশংসনীয় মাত্রা যুক্ত করেছে বলে আমি মনে করি।”

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এই মহড়া দেখেন।

এর আগে বেলা পৌনে ১২টায় প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে করে রংপুরের পাগলাপীরে খলেয়া হেলিপ্যাডে পৌঁছালে সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক তাকে স্বাগত জানান। পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার শ্বশুরবাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জে। তার স্বামী ওয়াজেদ মিয়ার কবরও সেখানে। তবে এই সফরে রংপুরে কোনো জনসভায় অংশ নিচ্ছেন না আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারেক আহমেদ সিদ্দিক, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব আবুল কালাম আজাদ ও প্রেস সচিব ইহসানুল করিম রংপুরে শেখ হাসিনার সঙ্গে ছিলেন।

রংপুর সফর শেষে বিকালে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।