সোমবার ১৭ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

প্লুটোয় বরফের আগ্নেয়গিরি!

প্রকাশঃ ২১ জানুয়ারি, ২০১৬

আগ্নেয়গিরি শব্দটা শুনলেই ফুটন্ত লাভা, প্রচণ্ড তাপে গলে যাওয়া পাথর আর আগুনের দৃশ্যগুলো চোখে ভাসাটাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু আগুন আর লাভার বদলে আগ্নেয়গিরি থেকে বরফ বের হচ্ছে–এটা কল্পনা করা বেশ কষ্টসাধ্য বৈকি! কিন্তু বামন গ্রহ প্লুটোতে এমনই ‘ক্রায়োভলকেনো’ আছে বলে মনে করছেন নাসার বিজ্ঞানীরা।
প্লুটোর পৃষ্ঠে ‘ক্রায়োভলকেনো’-এর উপস্থিতি সম্পর্কে নাসার বিজ্ঞানীরা আভাস পেয়েছিলেন গেল বছরেই। প্লুটোর পাশ দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় জুলাই মাসে বামন গ্রহটির পৃষ্ঠের ছবি তুলে পাঠানো শুরু করে ‘নিউ হরাইজন স্পেসক্রাফট’। মহাকাশযানটির পাঠানো ছবি বিশ্লেষণের পর প্লুটোর পৃষ্ঠে ক্রায়োভলকেনোর উপস্থিতির সম্ভাবনা আরও বেড়েছে।
নিউ হরাইজনের যে ছবিকে কেন্দ্র করে আলোচনা, সেই ছবিটি ছিল প্লুটো পৃষ্ঠের ‘রাইটস মনস’-এর। রাইট ব্রাদার্দের নামের সঙ্গে মিল রেখে নামকরণ করা ওই অঞ্চলটি ৯০ মাইল প্রশস্ত এবং উচ্চতায় আড়াই মাইল। ওই অঞ্চলটি ‘ক্রায়োভলকেনো’ বলে নাসা নিশ্চিত হতে পারলে আমাদের সৌরজগতের প্রান্তে সবচেয়ে বড় ক্রায়োভলকেনো হবে এটি।
আগুন আর উত্তপ্ত লাভার বদলে বরফ, নাইট্রোজেন, অ্যামোনিয়া আর মিথেন উদগীরণ হয় ক্রায়োভলকেনো থেকে। শনির চাঁদ টাইটান আর নেপচুনের চাঁদ ট্রাইটনেও ক্রায়োভলকেনো আছে বলে নাসার বিজ্ঞানীরা সন্দেহ করে আসছেন অনেক দিন ধরেই।
মহাকাশ বিজ্ঞানীদের কাছে বৈচিত্রময় একটি গ্রহ প্লুটো। এর পৃষ্ঠে বরফ ঢাকা সমতল অঞ্চল যেমন আছে, তেমনি আছে বালির স্তুপ আর প্রাচীন হ্রদ।
২০০৬ সালে প্লুটোর ‘গ্রহ’ তকমা উঠিয়ে নিয়ে বামন গ্রহ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। ওই বছরই যাত্রা শুরু করে নিউ হরাইজন। ২০১৫ সালে মূল লক্ষ্যে পৌঁছায় মহাকাশ যানটি। তবে সেখানেই শেষ হয়নি মহাকাশযানটির অভিযান। মহাকাশের আরও অনেক অজানা রহস্যের সন্ধান দিতে অভিযান চালিয়ে যাবে মহাকাশযানটি।