বৃহস্পতিবার ২৭শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৪শে জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

নতুন নৌ-বাহিনী প্রধান নিজামউদ্দিন আহমেদ

প্রকাশঃ ২২ জানুয়ারি, ২০১৬

সোনারবাংলা ৭১.কম ডেস্ক: বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী প্রধানের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন নিজামউদ্দিন আহমেদ। আগামী ২৭ জানুয়ারি থেকে তাকে রিয়ার অ্যাডমিরাল থেকে ভাইস অ্যাডমিরাল পদে পদোন্নতি প্রদানপূর্বক হিসেবে নৌ-বাহিনী প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

রিয়ার অ্যাডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ বর্তমান নৌ-প্রধান অ্যাডমিরাল এম ফরিদ হাবিবের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।

নিজামউদ্দিন আহমেদকে ২০১৯ সালের ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন বছর মেয়াদে নৌ-বাহিনী প্রধান পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে। অ্যাডমিরাল এম ফরিদ হাবিবের আগামী ২৭ জানুয়ারি থেকে নৌ-বাহিনী প্রধানের চাকরি থেকে অবসর প্রদান কার্যকর হবে বলে একই দিন প্রকাশিত অপর এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়।

রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নিজামউদ্দিন ১৯৬০ সালে মাদারীপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মরহুম এম এ রশীদ স্কুলশিক্ষক এবং মা মরহুম মিসেস ফজিলাতুন্নেসা গৃহিণী ছিলেন। তিনি ১৯৭৬ সালে মাদারীপুর ইউনাইটেট ইসলামিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে লেটার মার্কসহ প্রথম বিভাগে এসএসসি এবং ১৯৭৮ সালে মাদারীপুর নাজিমউদ্দিন সরকারি কলেজ থেকে প্রথম বিভাগে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।

মোহাম্মদ নিজামউদ্দিন ১৯৭৯ সালের ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীতে যোগদান করেন এবং তৎকালীন যুগোশ্লাভিয়ার মার্শাল টিটো নেভাল একাডেমি থেকে গ্র্যাজুয়েশন লাভ করেন।

তিনি ১৯৮১ সালের ১ আগস্ট কমিশনপ্রাপ্ত হন। ভারতের ন্তঃবাহিনী স্টাফ কোর্স এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ, মিরপুর থেকে এনডিসি কোর্স সমাপ্ত করেন। তাছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাসহ দেশে-বিদেশে বিভিন্ন কোর্সে অংশগ্রহণ করে সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করেন।

চাকরি জীবনে রিয়াল অ্যাডমিরাল নিজাম বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি নৌ-সদর দফতরে পার্সোনেল সার্ভিসের পরিচালক এবং নৌ-প্রধানের সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি এবং ট্যাজ স্কুলের প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। তাছাড়া তিনি বাংলাদেশ কোস্টগার্ড সদর দফতরে অপারেশন্স পরিচালক ছিলেন।

রিয়ার অ্যাডমিরাল নিজাম টর্পেডো বোট, মাইন সুইপার, গানবোট এবং বিভিন্ন ধরনের টহলযানের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি নৌ-বাহিনীর তিনটি বৃহৎ ফ্রিগেট কমান্ড করার দুর্লভ সম্মানও অর্জন করেন। তিনি নৌ-বাহিনীর বিভিন্ন ঘাঁটির কমান্ডের দায়িত্বও অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে পালন করেন।

ফলশ্রুতিতে পরবর্তীতে তিনি চট্টগ্রামস্থ বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর সর্ববৃহৎ এলাকার কমান্ডের দায়িত্ব প্রাপ্ত হন। তিনি দুই বছরের বেশি সময় এরিয়া কমান্ডের দায়িত্ব পালন করেন এবং নৌ-প্রধানের প্রশংসা (Commendation) অর্জন করেন। বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীতে প্রশংসনীয় সার্ভিসের জন্য রিয়ার অ্যাডমিরাল নিজাম প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কর্তৃক অসামান্য সেবা পদকে (ওএসপি) ভূষিত হন।

রিয়ার অ্যাডমিরাল নিজাম জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশন আইভরিকোস্টে সামরিক পর্যবেক্ষক হিসেবে দক্ষতা ও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।

রিয়ার অ্যাডমিরাল নিজাম ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করে অদ্যাবধি অত্যন্ত সাফল্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এ সময়কালে চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি সরকারের আন্তরিক সহায়তায় চট্টগ্রাম বন্দরের ব্যাপক উন্নতি, সম্প্রসারণ এবং আধুনিকায়নের কাজ করেন। তাছাড়া গত প্রায় ৫ বছর বিভিন্ন ক্রান্তিকালে তিনি বন্দরকে সার্বক্ষণিক সচল রেখে দেশের অর্থনীতি উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। চট্টগ্রাম বন্দরের পাশাপাশি তিনি দেশের তৃতীয় সমুদ্রবন্দর পায়রা বন্দরের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করছেন এবং পায়রা বন্দর প্রতিষ্ঠায় বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছেন।

দীর্ঘ চাকরি জীবনে রিয়ার অ্যাডমিরাল নিজাম নৌ-বাহিনী, কোস্টগার্ড, আন্তঃবাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা, জাতিসংঘ এবং চট্টগ্রাম বন্দরে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তিনি অনেক দেশ ভ্রমণ করেন। তিনি ফ্রেঞ্চ ও সার্ব-ক্রোয়েশিয়ার ভাষায় বলা ও লেখায় পারদর্শী।