শনিবার ২২শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের সুযোগ নেই

প্রকাশঃ ০১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

নানা উদ্যোগের কারণে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের কোন সুযোগ নেই মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, একবারই এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়েছিল। তখন উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত টিম করে যে তথ্য বের করেছি, তার আলোকে আইনি সংস্থাগুলোকে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। আগে প্রশ্ন তৈরি, প্রশ্ন ছাপিয়ে বের করে কেন্দ্রে পৌঁছানো পর্যন্ত অনেকের জানার সুযোগ ছিল। এটা কমাতে কমাতে এক দুইজনের মধ্যে নিয়ে আসছি। তারাও বলতে পারবে না আজ কোন প্রশ্নে পরীক্ষা হচ্ছে। মন্ত্রী, সচিব, বোর্ডের চেয়ারম্যান ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের পক্ষেও বলা সম্ভব না।
সোমবার সকালে রাজধানীর তেজগাঁও সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ বলেন, প্রশ্ন ফাাঁস যাতে না হয় সেজন্য আইনশৃঙ্খল বাহিনি দিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছি। এখন বিজি প্রেস ফাঁস না হওয়ার বিষয়টি আমরা নিশ্চিত করেছি। সেখান থেকে প্রশ্ন আউট হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। নানাভাবে প্রশ্ন তৈরি করেছি আপনার সামনে প্রশ্ন পড়লেও বুঝতে পারবেন না কোন প্রশ্ন দিয়ে পরীক্ষা হবে। তবে এখানে নানা ধরনের অসৎ লোক আছে। তারা ব্যবসা করে। সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করতে পারে।

৬০ দিনের মধ্যে এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগে বাজার থেকে বই কিনতে দুই মাস তিন মাস লাগতো। তখন সবাই ধরেই নিতো কয়েক মাস এমনিতেই যাবে। আজকে এখন আর সময় নষ্ট হয় না বছরের প্রথম দিন বই দেয়া হয় এবং ক্লাশ শুরু হয়। আজ যে পরীক্ষা শুরু হলো তার তাত্ত্বিক অংশ ৮ মার্চ শেষ হবে আর ব্যাবহারিক পরীক্ষা পরদিন শুরু হয়ে শেষ হবে ১৪ মার্চ। তারপরে আমরা ৬০ দিনের মধ্যে ফলাফল দিবো এতে কোন সন্দেহ নেই, আমাদের সে রকম প্রস্তুতি আছে।

তিনি বলেন, এই পরীক্ষাটি আমাদের শিক্ষা জীবনে চবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এটি শিক্ষার্থীদের প্রথম পাবলিক পরীক্ষা। জেএসসি ও পিইসি পাবলিক পরীক্ষা নয়, এটা জাতীয় পরীক্ষা। সকল শিক্ষার্থীদের ধরে রাখার জন্য এ পরীক্ষা নেয়া হয়। আজকে মূল পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৬ লাখ ৫১ হাজার ৫২৩ জন। এবারের পরীক্ষায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করতে পারি, এবার ছেলেদের চেয়ে ৯২ হাজার ৬৬৩ মেয়ে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে আমাদের শংকা ও উদ্বেগ ছিল তা কাটিয়ে উঠেছি। এখন আমাদের ছেলে মেয়েরা অনেক বেশি বিজ্ঞান পড়ছে। এবার বিজ্ঞানে ৫৬ হাজার ২৮৬ জন পরীক্ষার্থী বৃদ্ধি পেয়েছে।

শিক্ষার সকল সূচকে এগিয়ে দাবি করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিজ্ঞান বিভাগে পড়া ও শিক্ষার মান অগ্রসর হচ্ছে। যদিও আমাদের আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ হল শিক্ষার মান বৃদ্ধি করা। রাতারাতি দুনিয়ার কেউ করতে পারেনি। ৫-৭শত বছর ধরে উন্নত পূজিবাদী দেশগুলোর সময় লেগেছে। আমরা চেষ্টা করছি গুনগতমান বৃদ্ধির জন্য।

শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষা সচিব মো. সোহাবার হোসেন ও মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুনসহ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধতন কর্মকতারা ছিলেন।