বৃহস্পতিবার ২৭শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৪শে জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

গায়ে হাত দিয়ে হিজড়াদের ‘চাঁদাবাজি’

প্রকাশঃ ০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

সড়কের সিগন্যাল, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ি কিংবা বিয়ে বাড়ি। সবখানেই হিজড়াদের টাকা তোলা নতুন কিছু নয়। কেউ ভয়ে কেউ আবার স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের টাকা দিয়ে সহযোগিতা করে। কিন্তু ইদানিং হিজড়াদের আচরণ বদলে গেছে। পাল্টে গেছে তাদের টাকা চাওয়ার ধরনও। আগের দিনের সেই টাকা তোলা এখন চাঁদা আদায়ে পরিণত হয়েছে। রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি, দোকানপাট যেখানে-সেখানে টাকার জন্য মানুষকে নাজেহাল করছে হিজড়ারা।
ট্রাফিক সিগন্যাল পড়ার পর হিজড়ারা সামনে এসে দাঁড়ালে যাত্রীদের কিছু করার থাকে না। কারণ তাদের সঙ্গে তর্ক করলে যাত্রীদের আরো বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হয়।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জাহানারা বলেন, বেশকিছু দিন আগে কলাবাগান থেকে সহকর্মীর সঙ্গে মোহাম্মদপুর যাচ্ছিলাম। ধানমন্ডিতে পৌঁছানোর আগের মোড়ের সিগন্যালে গাড়ি থামলে দুই হিজড়া আমাদের রিকশার দু’পাশে এসে দাঁড়িয়ে টাকা চাইলেন। আমার সহকর্মী টাকা দিতে মানা করলে পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হিজরা হাত স্পর্শ করে ২০ টাকা আদায় করে। কিন্তু তারা চাহিদা আরো বেশি। পরবর্তীতে ১০০ টাকা আদায় করে তারা।
তানজিনা ইসলাম নামে আরেক ভুক্তভোগী বলেন, হিজড়া দেখে আমি ভয় পাই। বাংলামোটর সিগন্যালে আমাকে হিজড়া ধরলে আমি তাদের দূরে সরতে বলি। পরবর্তীতে তারা আমার শরীরে হাত দিলে আমি হ্যান্ডব্যাগ থেকে ৫০০ টাকা বের করে দেই। হিজড়ারাদের ‘বডি ল্যাঙ্গুয়েজ’ (শারীরিক ভঙ্গি) দেখিয়ে চাঁদা দাবি করে। যাদের চেহারায় তারা ভয় দেখে তাদের থেকে বেশি আদায় করে।
রাজধানীর বাংলামোটর থেকে সেগুনবাগিচা যাচ্ছিলেন আজাদ রহমান। মগবাজার মোড়ের কাছাকাছি এসে তিনি দেখলেন সালোয়ার কামিজ পরিধান একজন দৌড়ে গিয়ে একটি রিকশা থামালো।
আজাদ জানান, প্রথমে দূর থেকে আমি বুঝতে পারিনি। মনে হচ্ছিল একজন মেয়ে কেন এভাবে রিকশার পেছন দৌড়ে সেটি থামাবে। কৌতুহল হচ্ছিল। আমাদের রিকশা যখন বেইলীরোডে পৌঁছে তখন সিগন্যাল পড়ে গেছে। সেসময় সামনা-সামনি দেখে আমার কৌতুহলের ইতি ঘটে। সামনে আসতেই ‘কিছু টাকা’ দাবি করে সে একজন হিজড়া। ১০ টাকা দিলে রাজি হয় না সে। পরে জোরপূর্বক ২০ টাকা আদায় করে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওই এলাকার দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি) মো. আবু ইউছুফ বলেন, ‘প্রায়ই এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে বলে শুনি। তবে আমরা স্বচক্ষে দেখলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থাও নেই। তবে লজ্জার তাড়নায় পুলিশের কাছে কেউ অভিযোগ করেন না।’হিজড়াদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও লাঞ্ছনার অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) এস এম জাহাঙ্গীর আলম সরকার বলেন, ‘হিজড়ারা নিজেরা ছাড়া তাদের বিরুদ্ধে কেউ কোন অভিযোগ দেয় না। মানুষও তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে চায় না। তবে হিজড়াদের বিরুদ্ধে লাঞ্ছনা কিংবা চাঁদাবাজির সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’সাধারণ মানুষকে হয়রানি, লাঞ্ছনা আর চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করেন গুলশান-বনানী এলাকার ঝুলি হিজড়া(মাসুমা)। তিনি বলেন, ‘যারা হিজড়া বেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কিংবা ট্রাফিক সিগন্যাল থেকে টাকা নেন তাদের অনেকেইপ্রকৃত হিজড়া নয়। এদের অধিকাংশই পুরুষ। তারা বিনাশ্রমে অর্থ উপার্জনের জন্য হিজড়া সেজে হয়রানি-চাঁদাবাজি করে।তিনি আরো বলেন, ‘অনেকেই পুরুষ থেকে অপারেশনের মাধ্যমে নিজেদের বেশ স্থায়ীভাবে পরিবর্তন করেছে। মানুষকে লাঞ্ছিত করে প্রকৃত হিজড়াদের ইমেজ নষ্ট করছে নকল হিজড়ারা। যারা প্রকৃত হিজড়া তারা মানুষের দেয়া টাকাতেই খুশি থাকে। আমরা চাই ঐসব নকল হিজড়াদের শনাক্ত করে শাস্তি দেয়া হোক।’