সোমবার ১৭ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

হিজড়াদের হাতে জিম্মি পূর্বাঞ্চল ট্রেনের যাত্রীরা

প্রকাশঃ ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

শারমীন আক্তারঃ দিন দিন হিজড়াদের চাঁদাবাজির কারণে জিম্মি হয়ে পড়ছেন পূর্বাঞ্চল রেলপথে চলাচলকারী বেশ কয়েকটি ট্রেনের সাধারণ যাত্রীরা। পুলিশের সামনেই যাত্রীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করলেও নিরব দর্শকের ভূমিকায় থাকেন রেলওয়ে পুলিশ সদস্যরা।
যদিও কিছু অসাধু পুলিশ সদস্যের যোগসাজশেই হিজড়ারা যাত্রীদের কাছ থেকে নিয়মিতভাবে চাঁদা আদায় করছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা। তবে হিজড়াদের চাঁদাবাজির ব্যাপারে পুলিশ ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েও প্রতিকার পাচ্ছেন না তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছোট-বড় অন্তত ৭/৮টি সংঘবদ্ধ হিজড়া চক্র ঢাকা-চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম-সিলেট রেলপথে চলাচলকারী মহানগর এক্সপ্রেস, উপকূল এক্সপ্রেস, মহানগর গোধূলি এক্সপ্রেস ও উদয়ন এক্সপ্রেসসহ কয়েকটি ট্রেনে যাত্রীদের কাছ থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করে থাকে। চাঁদা দিতে অপরাগতা জানালেই হিজড়ারা তাদের কাপড় খুলে ফেলে এবং অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে যাত্রীদের অপমান করে। এদের মধ্যে অনেক হিজড়া আছেন যারা ১০ টাকার কম নিতে চান না। কেউ কেউ আবার যাত্রীদের কাছ থেকে ছিনিয়েও নিয়ে যান টাকা।
চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনে ৫/৬ জনের দুইটি হিজড়া চক্রকে যাত্রীদের এক প্রকার জিম্মি করেই চাঁদা আদায় করতে দেখা গেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে ট্রেন ছাড়ার আগ মুহূর্তে একটি ও কুমিল্লা স্টেশন ছাড়ার পর আরেকটি হিজড়া চক্র পুলিশের সামনেই যাত্রীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে।
মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী প্রবীর দাস সোনারবাংলা৭১.কমকে= বলেন, প্রায়ই তিনি চট্টগ্রাম থেকে মহানগর এক্সপ্রেস ট্রেনে চড়ে কিশোরগঞ্জের ভৈরব যান। প্রতিবারই তাকে হিজড়াদের চাঁদা দিতে হয়। চাঁদা না দিলে কাপড় খুলে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি দেখিয়ে অপমান করে। তাই বাধ্য হয়েই হিজড়াদের চাঁদা দেন তিনি।
মহানগর এক্সপ্রেসে ট্রেনের আরেক যাত্রী করিম মিয়া সোনারবাংলা৭১.কমকে= জানান, তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায়। তিনি চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে ব্যবসা করেন। দুই ছেলে-মেয়ে নিয়ে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন। তাই ছোট ছেলে-মেয়েদের সামনে নিজের সম্মান বাঁচাতে বাধ্য হয়েই তিনি চট্টগ্রাম স্টেশনে একবার এবং কুমিল্লা স্টেশন ছাড়ার পর আরেকবার হিজড়াদের চাঁদা দিয়েছেন।
এদিকে অনেক যাত্রীরাই অভিযোগ করেন কিছু অসাধু পুলিশ সদস্যসের যোগসাজশে সংঘবদ্ধ এসব হিজড়া চক্র যাত্রীদের জিম্মি করে তাদের কাছ থেকে নিয়মিতভাবে চাঁদা আদায় করে। তাই হিজড়াদের অপতৎপরাতায় অতিষ্ঠ ভুক্তভোগী সাধারণ যাত্রীরা চাঁদাবাজি বন্ধে জরুরি ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তবে পুলিশের বিরুদ্ধে যাত্রীদের আনা অভিযোগ অস্বীকার করে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের পুলিশ সুপার (এস.পি) নজরুল ইসলাম মুঠোফোনে সোনারবাংলা৭১.কমকে= বলেন, হিজড়াদের যেসব সমিতি রয়েছে আমরা সেসব সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। চাঁদাবাজি বন্ধে ইতোমধ্যেই রেলওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও ট্রেনের গার্ড এবং টিটিদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। হিজড়ারা ট্রেনে ওঠলে যেন তাদের ট্রেন থেকে নামিয়ে দেয়া হয়।