শনিবার ২৯শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৬শে জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

চার শিশু হত্যাকারীদের ধরিয়ে দিলে লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন

প্রকাশঃ ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

নিজস্বপ্রতিবেদকঃ হবিগঞ্জের বাহুবলে নিখোঁজের পাঁচদিন পর বালুর নিচ থেকে চার শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে খবর পেয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করা হয়।তারা হলো- ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে জাকারিয়া শুভ (৮), আফদাল মিয়ার ছেলে মনির মিয়া (৭), আবদুল আজিজের ছেলে তাজেল মিয়া (১০) এবং তাদের প্রতিবেশী আব্দুল কাদিরের ছেলে ইসমাইল মিয়া (১০)। এর মধ্যে শুভ, তাজেল মিয়া ও মনির সম্পর্কে আপন চাচাত ভাই।
বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারররফ হোসেন সোনারবাংলা৭১.কমকে জানান, সকালে স্থানীয়রা বালুর নিচে শিশুদের লাশের সন্ধান পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশগুলো উদ্ধার করে। গত শুক্রবার বিকালে ঐ চার শিশু গ্রামের মাঠে খেলতে যায়। রাতে তারা বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। কোথাও তাদের পাওয়া যায়নি। পরদিন শনিবার শুভর বাবা ওয়াহিদ মিয়া বাহুবল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।

হবিগঞ্জের বাহুবলে চার শিশুকে হত্যার ঘটনায় হত্যাকারীদের ধরিয়ে দিতে পারলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে এক লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে পুলিশ।
আজ বুধবার সকালে শিশুদের লাশ উদ্ধারের পর দুপুরে হবিগঞ্জের পুলিশ প্রশাসন এই পুরস্কার ঘোষণা করে।
বুধবার বেলা ১১টার দিকে হবিগঞ্জের বাহুবলে নিখোঁজের পাঁচদিন পর একই পরিবারের চার শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে কেউ এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
খুন হওয়া চার শিশু হলো-বাহুবলের ভাদেশ্বর ইউনিয়নের সুন্দ্রাটিকি গ্রামের মো. ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে স্থানীয় সুন্দ্রটিকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণির ছাত্র জাকারিয়া আহমেদ শুভ (৮), তার চাচাতো ভাই একই বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র তাজেল মিয়া (১০), আবদাল মিয়ার ছেলে একই বিদ্যালয়ের ১ম শ্রেণির ছাত্র মনির মিয়া (৭) এবং আব্দুল কাদিরের ছেলে সুন্দ্রাটিকি মাদরাসার ছাত্র ইসমাঈল হোসেন (১০)।
স্থানীয়রা জানান, গত শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টায় বাড়ির পাশের মাঠে খেলাধূলা করতে যায় ওই শিশুরা। সন্ধ্যার পরও তারা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে না আসায় অভিভাবকরা খোঁজাখুজি করতে থাকে। কোথাও তাদের সন্ধান না পেয়ে শুক্রবার রাতেই উপজেলার সর্বত্র মাইকযোগে নিখোঁজ সংবাদটি প্রচার করা হয়। পরে শনিবার দুপুর পর্যন্ত ওই চার শিশুর সন্ধান না পেয়ে জাকারিয়া আহমেদ শুভর বাবা ওয়াহিদ মিয়া বাদী হয়ে বাহুবল মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।
গত রবিবার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে সিলেটের ভারপ্রাপ্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ড. মো. আক্কাছ উদ্দিন ভূঁইয়া, হবিগঞ্জের সহকারী পুলিশ সুপার (দক্ষিণ, সার্কেল) মাসুদুর রহমান মনির ও হবিগঞ্জ গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক মো. মুক্তাদির হোসেন বাহুবল অবস্থান করেন এবং স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে দিনভর মিটিং করেন। সোমবার বিকালে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে নিখোঁজ শিশুদের সন্ধানদাতাকে ২০ হাজার টাকা পুরস্কার দেয়ার ঘোষণা করা হয়।