রবিবার ২৩শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২০শে জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

বিজয়নগরে জাতীয় পার্টির উদ্যোগে মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালিত হচ্ছে।

প্রকাশঃ ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

মনির হোসাইন চৌধুরী–ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজয়নগরে জাতীয় পার্টির উদ্যোগে মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালিত হচ্ছে। শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা করা হয়। একুশ মানে মাথা নত না করা। একুশ মানেই বাংলা জয়ের প্রথম প্রহর। মা-মাটি-মানুষের আবেগের ২১ ফেব্রুয়ারি। আজ মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। যেন অধিকার আদায়ে বাঙালির জীবনে প্রথম সূর্যোদয় এদিন। রক্ত দিয়ে মাতৃভাষার অধিকার ছিনিয়ে নেয়ার দিন ২১ ফেব্রুয়ারি।
একুশের প্রথম প্রহরেই ফুলে ফুলে ভরে উঠছে দেশের শহীদ মিনারগুলোর দিনব্যাপি ফুল দিয়ে বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরিবে জাতির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান ভাষা শহীদ সালাম, রফিক, জব্বারদের। প্রতি শহীদ দিবসে শোককে শক্তিতে রূপ দিয়ে বাঙালি তার দেশমাতৃকার চেতনাদীপ্ত শপথ নিয়ে এগিয়ে যাওয়া প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা নিবেদনে কোনোই কার্পূণ্য থাকে না দেশবাসীর। দল-মত, জাতি-ধর্ম, আবাল-বৃদ্ধা নির্বিশেষে সকলেই ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে অধীর আগ্রহে থাকেন। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রবাসী বাঙালিরাও। বিশেষ মর্যাদায় দিবসটি পালন করবে বিশ্ববাসীও।
বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্র ভাষা করার দাবি ওঠে দেশভাগের পরপরই। ১৯৪৭ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বর ভাষার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হলেও ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে আন্দোলনে রূপ নেয়, যা ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি চরম প্রকাশ ঘটে।
২১ ফেব্রুয়ারি ওই ঘটনার মধ্য দিয়ে ভাষা আন্দোলন আরো বেগবান হয়, যার ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করে এবং ৯ মে অনুষ্ঠিত গণপরিষদের অধিবেশনে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়। সেই থেকে প্রতি বছর এ দিনটি জাতীয় ‘শোক দিবস’ হিসেবে উদযাপিত হয়। বিজয়নগর উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মোঃ আজিজুল ইসলাম দুলালের নেতৃবৃন্দ,সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা হলেন, জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোঃএমদাদ বারী,যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মৌলনা সিরাজ আকবর,মোঃ জামাল খান,প্রচার সম্পাদক আদম খান,চিফ উপদেষ্টা সালাউদ্দিন, যুব সংহতি আহবায়ক মাটি ফারুক, সাংগঠনিক সম্পাদক আল-আমীন,শাহী্‌ন,আলী আজ্জম, আবুল কালামসহ আর ও অনেকি শহীদ মিনারে এসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন।
এ সময় ‘আমার ভাইয়ের রক্ত রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’ গানটির করুণ সুর বাজানো হয়।
১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর প্যারিস অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং ২০০০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে দিবসটি জাতিসঙ্ঘের সদস্যদেশসমূহে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হচ্ছে।