শনিবার ২২শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

‘উন্নয়নযুদ্ধে জয়ের জন্যই কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন অপরিহার্য’

প্রকাশঃ ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

নিজস্বপ্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ থেকে: দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন যুদ্ধে জয়লাভের জন্যই কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ।
তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন ও স্থিতিশীলতা সংরক্ষণে কৃষির ভূমিকাই মুখ্য। বর্তমান সরকারের নিরলস প্রচেষ্টায় জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বৈরিতা মোকাবেলা করে খাদ্যশস্য উৎপাদনে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে একটি বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পৌনে ১২টায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সপ্তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতির ভাষণে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলী আকবর। এ সময় বক্তব্য রাখেন ধর্মমন্ত্রী প্রিন্সিপাল মতিউর রহমান।
সমাবর্তনে বক্তব্য রাখেন ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক’র উপাচার্য অধ্যাপক ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী। সম্মানিত অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুল মান্নান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সংখ্যা শতকরা ১৫ ভাগে নামিয়ে এনে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করতে বর্তমান সরকার ‘রূপকল্প-২০২১’ ঘোষণা করেছে। এ ঘোষণায় অন্যান্য খাতের পাশাপাশি যথাযথভাবে কৃষিখাতের ওপর সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করেছে।
টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নের বিকল্প নেই মন্তব্য করে আব্দুল হামিদ একটি চীনা প্রবাদ উল্লেখ করেন। ‘জাতীয় উন্নতি ও সম্পদ একটি গাছের ন্যায়-কৃষি তার মূল, শিল্প তার শাখা আর বাণিজ্য তার পাতা। মূলে ক্ষত দেখা দিলে পাতা ঝরে যায়, শাখা ভেঙে পড়ে এবং গাছ মরে যায়’।
কৃষির উপর বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলা দেশের জন্য বিশাল চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা হ্রাস, নিচু এলাকা প্লাবিতসহ এ অঞ্চলে বসবাসরত জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তনের আশঙ্কা রয়েছে।
বিষয়টি মাথায় রেখেই আমাদের লবণাক্ততা সহিষ্ণু ধান ও অন্যান্য ফসলের জাত উদ্ভাবনসহ কম সময়ে উৎপাদনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবনে গবেষণা কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। রুশোর ভাষায় তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় ও সর্বাধিক গৌরবমণ্ডিত শিল্পই হচ্ছে কৃষি’।
দেশের কৃষি খাতে অভাবনীয় সাফল্যের জন্য এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদানের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটসহ অন্যান্য কৃষিবিদ, যারা নিরন্তর গবেষণার মাধ্যমে পরিবেশ উপযোগী প্রযুক্তি উদ্ভাবনসহ সব পর্যায়ে তা দ্রুত হস্তান্তর ও বিস্তারের কাজে নিজেদের সারাক্ষণ নিয়োজিত রেখেছেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সম্প্রতি এখানে বেশ কিছু শিক্ষা ও গবেষণার উদ্যোগ নেওয়া হয়। নেদারল্যান্ড সরকারের আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত ইন্টার ডিসিপ্লিনারি সেন্টার ফর ফুড সিকিউরিটি (আইসিএফ) সেন্টার থেকে খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করা হচ্ছে। একটি অত্যাধুনিক ফুড সেফটি ল্যাব গড়ে তোলা হয়েছে। এছাড়া হাওর ও চর উন্নয়নে ইনস্টিটিউট স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। এবং কক্সবাজারে ‘সামুদ্রিক মাৎস্য বিজ্ঞান, মাঠ গবেষণা ও শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলছে। এগুলো নিঃসন্দেহে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের গতিশীলতার পরিচয় বহন করে’।
রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে একটি নতুন ছাত্রী হল, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একটি বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণসহ শিক্ষা ও গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
পরে ৪ কৃতী শিক্ষার্থীর গলায় গোল্ড মেডেল পরিয়ে দেন রাষ্ট্রপতি।
এর আগে বেলা ১টায় রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠান মঞ্চে এসে উপস্থিত হন। অনুষ্ঠান শেষে তিনি ময়মনসিংহের সার্কিট হাউজে বিশ্রাম নিচ্ছেন।