মঙ্গলবার ২৫শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২২শে জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

পুরোহিত হত্যা: তিন আসামির ১৮ দিন রিমান্ড মঞ্জুর

প্রকাশঃ ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

2016_02_23_14_51_26_IE4X4gLcRF1DPScA573XX7RtrjdVDg_original

পঞ্চগড়: জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার সোনাপাতা এলাকায় শ্রীশ্রী সন্ত গৌড়ীয় মঠের প্রধান পুরোহিত যজ্ঞেশ্বর রায়কে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা দুই মামলায় অভিযুক্ত জেএমবি সদস্য তিন আসামির প্রত্যেককে ১৮ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

শনিবার দুপুর একটার দিকে পঞ্চগড় দেবীগঞ্জ আমলি আদালত-১০৪ এ আসামিদের হাজির করলে শুনানি শেষে বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মার্জিয়া খাতুন হত্যা মামলায় ১০ ও বিস্ফোরক মামলায় ৮ দিন করে প্রত্যেকের ১৮ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- দেবীগঞ্জ উপজেলা সদরের কামাতপাড়া মহল্লার রফিকুল ইসলামের ছেলে আলমগীর হোসেন (৩৭) একই উপজেলার সুন্দরদিঘী ইউপির কালিরডাঙ্গা গ্রামের হারেছ আলী (৩২) এবং রমজান (২২)।

গত বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ পঞ্চগড় ও পার্শ্ববর্তী নীলফামারী জেলার ডিমলায় অভিযান চালিয়ে ৩ জেএমবি সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। এরমধ্যে মঠের পুরোহিত কিলিং মিশনে অংশ নেয়া ৫ জেএমবি সদস্যকে আশ্রয়দানকারী ও মূলহোতা রয়েছে। হেলমেড ও পুলিশের বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরিয়ে কড়া পুলিশ প্রহরায় গ্রেপ্তারকৃত ওই তিন জঙ্গিকে জেলা প্রশাসক অফিসে স্থাপিত দেবীগঞ্জ আমলি আদালত-০৪ এ হাজির করা হয়।

আদালতে সরকার পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আমিনুর রহমান। জিপি আফজাল হোসেন, এপিপি নজরুল ইসলাম, এপিপি আবুল কালাম আজাদ লিটন, এপিপি এরশাদ হোসেন সরকার, কোর্ট ইনস্পেক্টর রবিউল ইসলাম। তবে, আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী শুনানিতে অংশ নেননি।

গত শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) খুনের পঞ্চম দিনে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জের সোনাপাতা এলাকার শ্রী শ্রী সন্ত গৌড়ীয় মঠের প্রধান অধ্যক্ষ হত্যার মূল হোতাসহ ওই ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় ওই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত পিস্তল ও চাপাতিও উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা নিষিদ্ধ সংগঠন জামা’তুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর সদস্য বলে জানায় পুলিশ।

উল্লেখ্য, গত ২১ ফেব্রুয়ারি সন্ত গৌড়ীয় মঠের প্রধান অধ্যক্ষ যজ্ঞেশ্বরকে গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় গোপাল চন্দ্র নামে আরেক পূজারি গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় ওইদিনই দেবীগঞ্জ থানায় নিহতের বড় ভাই রবীন্দ্রনাথ একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এছাড়া পুলিশ বাদী হয়ে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।