শনিবার ২৯শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৬শে জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

৩ বছরেও ৪ পুলিশ হত্যার আসামিরা গ্রেপ্তার হয়নি

প্রকাশঃ ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

গাইবান্ধা: জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়কে কেন্দ্র ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সুন্দরগঞ্জে নাশকতা চালায় জামায়াত-শিবির। এ সময় চার পুলিশ কনস্টেবলকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। তবে ঘটনার তিন বছর পেরিয়ে গেলেও ধরাছোয়ার বাইরে রয়েছেন মূল আসামিরা। মামলার এমন ধীরগতিতে ক্ষোভ জমেছে স্বজনদের মনে।

রোববার হত্যার তৃতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা সদর ও বামনডাঙ্গায় শোক র্যা লি, নিহত চার পুলিশের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ, আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে কালো দিবস উদযান কমিটি।

ঘটনার তির পার হলেও আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতদের স্বজনরা। ন্যায় বিচারের আশায় আজও তারা রাষ্ট্রের দিকে তাকিয়ে আছেন। হত্যাকারীরা যেন আইনের ফাঁক দিয়ে পার পেয়ে না যায় এমনটাই প্রত্যাশা তাদের। কিন্তু মামলার ধীরগতিতে তাদের সে প্রত্যাশা পূরণ হবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের পর দেড় বছর ধরে অধিকতর তদন্তের পর ২০১৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৩২ পৃষ্ঠার চার্জশিট দাখিল করেন সুন্দরগঞ্জ থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক। চার্জশিটে গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের জামায়াতের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ ও সর্বানন্দ ইউনিয়নের অবসরপ্রাপ্ত বিডিআর সদস্য মজিবর রহমানের অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলে সুমন মিয়াসহ ২৩৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। কিন্তু প্রধান আসামিরা আজও রয়েছেন ধরাছোয়ার বাইরে।

এ ব্যাপারে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসরাইল হোসেন বাংলামেইলকে জানান, ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৪ সালের নভেম্বর পর্যন্ত জামায়াত-শিবিরের সহিংসতায় পুলিশসহ নিহত হয়েছেন ১০ জন। এসব ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সুন্দরগঞ্জ থানায় ৪৫টি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় এক হাজার ৫০৭ জন ছাড়াও ৭৪ হাজার ১১৫ জন অজ্ঞাত আসামি রয়েছেন। এর মধ্যে চার পুলিশ হত্যাসহ অধিকাংশ মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হয়েছে। বর্তমানে মামলাগুলো বিচরাধীন রয়েছে।

তিনি আরও জানান, এসব মামলায় এজাহার ও অজ্ঞাত এক হাজার ২শ’ জনের বেশি আসামিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রধান আসামি ও অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেক ভালো।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাবিবুল আলম বাংলামেইলকে জানান, বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের সহিংসতায় সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় চার কোটি ১৫ লাখ ৫৫ হাজার ৮৯০ টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্তরা বিভিন্ন সময়ে সরকারি সহায়তা হিসেবে চাল ও নগদ টাকা পেয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণা করা হয়। বিচার বাধাগ্রস্ত করতে ওই দিন সারাদেশে হরতাল ডাকে জামায়াত-শিবির। হরতাল চলাকালে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ি, বেলকা, দহবন্দ, হরিপুর, বামনডাঙ্গা, সর্বানন্দ, তারাপুর, সোনারায়, রামজীবন ও ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা। দুপুরে রায় ঘোষণার পর বিভিন্ন এলাকায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ শুরু করেন তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বেধে যায়। এতে চার পুলিশ কনস্টেবল নিহত হন।

নিহরা হলেন- গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার খামার ধনারুহা গ্রামের মৃত এছাহাক আলীর ছেলে নাজিম উদ্দিন, রংপুরের পীরগাছা উপজেলার রহমতচর গ্রামের মৃত আনছার আলীর ছেলে তোজাম্মেল হক, কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার কিশামত গোবধা গ্রামের আবু শামার ছেলে হযরত আলী ও বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার ঠাকুরপাড়ার তফিজ উদ্দিনের ছেলে বাবলু মিয়া।2016_02_28_17_26_58_EqcdVhbtiO2LJLSyxEofgGDFtv6ZPC_128xauto