বৃহস্পতিবার ২৭শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৪শে জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

বাহুবলে যুবসংহতি নেতার খুন নিয়ে ধোঁয়াশা

প্রকাশঃ ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬

নিজস্বপ্রতিবেদকঃ হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলায় বাহুবলে চার শিশু হত্যাকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই রফিক মিয়া (৩৫) নামের এক যুবসংহতি নেতা খুন হয়েছেন। তিনি উপজেলার মিরপুর ইউনিয়ন যুবসংহতির সভাপতি ছিলেন। কে বা কারা, কী কারণে তাকে খুন করেছে তা কেউ বলতে পারছেন না। তবে নিহতের ছোট ভাইয়ের ধারণা প্রতিবেশীর সঙ্গে রাস্তা নিয়ে বিরোধের জের ধরে রফিক মিয়াকে খুন করা হয়েছে।

এদিকে, শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি। তবে রোববার রাত ১০টার দিকে বাহুবল থানার অফিসার ইনচার্জ মাশারফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলামেইলকে বলেন, ‘মামলা দায়ের জন্য রফিক মিয়ার স্বজনরা থানায় অবস্থান করেছেন। এখনো মামলা রেকর্ড করা হয়নি।’

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত রফিক মিয়ার সঙ্গে প্রতিবেশী জাহির মোল্লা ও তার ভাই আবুল কালামের দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির রাস্তা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। এরই জের ধরে কয়েকদিন আগে উভয় পক্ষের মধ্যে ঝগড়া হয়। রোববার রাতে উল্লেখিতরাই তাকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে খুন করেছে বলে অভিযোগ করেন নিহতের ছোট ভাই ছাদিক মিয়া।

তবে নিহত মিয়ার স্ত্রী তাছলিমা আক্তার বাংলামেইলকে বলেন, ‘প্রতিদিনের মতো রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে সবাই ঘুমিয়ে পড়ি। পরে রাত প্রায় দেড়টার দিকে তার রুমে গিয়ে দেখি সে রুমে নাই। পরে অনেক খুজাখোঁজির পরও তাকে আর পাওয়া যায়নি।’

প্রসঙ্গত, শনিবার দিবাগত রাতে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন উপজেলার মিরপুর ইউনিয়নের জয়রামপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে রফিক মিয়া। পরে রোববার ভোরে রফিক মিয়ার বাড়ির সামনে রক্তের দাগ, গেঞ্জি, কুড়াল ও লুঙ্গি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে সকাল সাড়ে ১১ টায় দাসপাড়া বারআওলীয়া রেল লাইন এলাকা থেকে রফিকের খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়।

রোববার বিকালে ময়নাতদন্ত শেষে তার লাশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় তাকে শেষ বারের মত দেখতে বাড়িতে শতশত নারী-পুরুষ ভিড় জমায়। পরে সন্ধ্যা ৭ টায় জানাযা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এদিকে, লাশ উদ্ধারের পর রফিক মিয়ার দুই প্রতিবেশীকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন- আবুল কালাম ও জাহির মিয়া। তারা দু’জনই রফিক মিয়ার চাচা বলে জানা গেছে। এদিকে, আটককৃত আবুল কালামের স্ত্রী সুফিয়া আক্তার বাংলামেইলকে বলেন, ‘রাতে রফিক মিয়ার স্ত্রী ও তাদের পরিবারের লোকজনের কান্নার শব্দ শুনে ঘুম থেকে উঠি। পরে শুনতে পাই যে রফিক মিয়াকে খুজে পওয়া যাচ্ছে না। এসময় আমি ও আমার স্বামীও খুঁজতে বের হই। আমার স্বামী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। তাকে এ ঘটনায় ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে।’

এ ব্যাপারে বাহুবল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন Habiganj_279824745সোনারবাংলা৭১.কমকে জানান, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি কুড়াল উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুই জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে এখানো কোনো তথ্য উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।