সোমবার ১৭ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

পালিয়ে বাঁচলেন পটুয়াখালীর এসপি

প্রকাশঃ ০৮ মার্চ, ২০১৬

পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর বাউফলে নির্বাচনী আইন শৃংখলা বিষয়ক সভায় পুলিশ সুপারের সামনে উপজেলা চেয়ারম্যানকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ গেছে। জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারের সামনে হামলাকারীরা উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা ইঞ্জিনিয়ার মুজিবুর রহমানসহ কয়েকজনকে বেধরক মারধর করে। নিজেদের রক্ষায় এ সময় জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের রুমে আশ্রয় নেন।

মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় উপজেলা চেয়ারম্যানকে বরিশাল চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। পৌর শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে।

সভায় উপস্থিত একাধীক সূত্র জানায়, সোমবার রাতে আদাবাড়িয়া ইউনিয়নে নির্বাচনী সহিংসতায় ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আশ্রাফ ফকির (৩৫) নিহত হওয়ার জের ধরে মঙ্গলবার সকাল থেকে উত্তপ্ত ছিলো বাউফল এলাকা। দুপুর ১২টায় বাউফল থানার ওসি মাসুদুজ্জামানের অপসারণ ও খুনিদের শাস্তির দাবিতে শহরে বিক্ষোভ মিছিল শেষে থানা ঘেরাও করে রাখে আওয়ামী লীগের চিফ হুইপ সমর্থক নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা বগা-বাউফল-কালাইয়া সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। বেলা পৌনে একটার দিকে জেলা প্রশাসক ঐ সড়ক দিয়ে যেতে চাইলে বিক্ষোভকারীরা তার গাড়ি অবরোধ করে এবং খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে। পরে জেলা প্রশাসক শামীমুল হক সিদ্দিকী গাড়ি থেকে নেমে পায়ে হেটে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনার পর বিকাল ৩টায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, মেম্বার ও মহিলা মেম্বার প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনী আইন শৃংখলা বিষয়ক সভায় মিলিত হন জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।

সভায় উপস্থিত একাধীক সূত্র জানায়, সভা চলাকালে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও উপজেলা চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মজিবুর রহমান বিভিন্ন ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থনে বক্তব্য দিতে শুরু করেন। এ সময় ফারুক চেয়ারম্যানরে নেতৃত্বে একদল ক্যাডার জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের সামনে তাকে মারতে মারতে মাটিতে ফেলে দেন। ঘটনা আকস্মিকতায় হতবিহ্বল হয়ে পরেন উপস্থিত সকলে। পরে পুলিশ সভাস্থলে এসে লাঠিচার্জ করে হামলাকারীদের সরিয়ে দিলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়। এ সময় পুলিশি প্রহরায় জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নিজের রক্ষায় ঘটনাস্থল ত্যাগ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের রুমে আশ্রয় নেন।

বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, উপজেলা চেয়ারম্যানসহ দুইজন আহত হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যানকে স্থানীয় ভাবে চিকিৎসা দিয়ে বরিশাল পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুরিশ সুপার মো. ফয়েজ আহমেদ জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বাউফলের ওসির প্রত্যাহারের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়টি তারা দেখছেন।

পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক এ কে এম শামিমূল হক সিদ্দিকী বলেন, পরিস্থিতি শান্ত করতে সকল ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।
download-nn