শনিবার ২২শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

ক্ষতবিক্ষত ছাত্র ও যুব সমাজ মাদকের ছোবলে

প্রকাশঃ ০৯ মার্চ, ২০১৬

দেশে মাদকের আগ্রাসন ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং ছাত্র ও যুবকসহ জনগোষ্ঠীর এক বিরাট অংশ এই আগ্রাসনের শিকারে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশকে হিসেবে রেখে ভারতের সীমান্ত এলাকা জুড়ে গড়ে উঠেছে মাদক তৈরির শত শত কারখানা। অন্যদিকে মায়ানমার সমুদ্র ও সীমান্ত এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে ইয়াবার কারখানা। এসব কারখানায় হেরোইন ও ফেন্সিডিল থেকে ইয়াবা পর্যন্ত অসংখ্য নাম ও ধরনের বিপুল পরিমাণ মাদক দ্রব্য উৎপাদিত হচ্ছে।

সীমান্তে নজরদারি না থাকায় এবং কিছু কিছু অঞ্চলে থাকলেও বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে কিংবা নগদ অর্থে ঘুষের বিনিময়ে সেগুলো সীমান্ত পার হয়ে বাংলাদেশের ভেতরে চলে আসছে। মাদক ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে রাতারাতি পৌঁছে যাচ্ছে খোলা বাজারে। অবস্থা এমন হয়েছে যে, দেশে এখন বিভিন্ন নেশা ও মাদক সামগ্রীর ছড়াছড়ি চলছে। ওষুধের দোকানে শুধু নয়, এসব কিনতে পাওয়া যাচ্ছে এমনকি পানের দোকানেও। রাজধানীতে তো বটেই, প্রতিটি জেলা ও উপজেলা শহর থেকে গ্রামের হাট-বাজারে পর্যন্ত প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন নেশার সামগ্রী।

ইদানীং ক’দিন পরপরই চোরাচালানের অবৈধ পথে দেশে আনা ইয়াবার চালান ধরা পড়ছে। সংখ্যা বা পরিমাণের দিক থেকে এসব চালান চমকে ওঠার মতো। সময়ে সময়ে অভিযান চালানো হলেও এবং চুনোপুঁটি ধরনের দু’চারজন ব্যবসায়ী বা বিক্রেতা ধরা পড়া সত্ত্বেও চোরাচালানীরা কিন্তু থেমে নেই। তারা বরং নিজেদের কৌশল পরিবর্তন করে চলেছে।

ইয়াবাসহ বিভিন্ন মরণ নেশার ছোবলে ক্ষতবিক্ষত হওয়ার খবর গোটা জাতির জন্যই ভয়াবহ এবং গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে পড়েছে। রিকশাওয়ালা ও দিনমজুর থেকে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা পর্যন্ত সবাই এরই মধ্যে মাদকের কবলে পড়ে ঘুরপাক খাচ্ছে। ছাত্রী এবং মেয়েরাও পিছিয়ে নেই। তারাও ছেলেদের মতোই চুটিয়ে নেশা করছে। আশঙ্কার অন্য কিছু কারণও লক্ষ্য করা দরকার। মাদক সামগ্রীগুলোর মধ্যে বিশেষ করে ইয়াবার দাম যেহেতু সাধারণ মাদকাসক্তদের নাগালের অনেক বাইরে সেহেতু টাকা যোগানোর জন্য নেশাখোররা চুরি-ছিনতাই ও ডাকাতির মতো ভয়ঙ্কর পথে পা বাড়িয়েছে। অনেকে এমনকি নিজেদেরই বাবা-মায়ের অর্থ ও সোনা-গহনা চুরি করছে। এভাবে বাংলাদেশের পুরো সমাজেই পচন ধরেছে। এখনই যদি প্রতিহত না করা যায় তাহলে স্বল্প সময়ের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যাবে বর্তমান প্রজন্ম। আগামী প্রজন্মও তাদের অনুসরণ করবে। ফলে দেশ ও জাতির উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির কোন ক্ষেত্রেই তারা সামান্য অবদান রাখতে পারবে না। তেমন মেধা ও যোগ্যতাই থাকবে না তাদের।

একই কারণে ফেনসিডিল ইয়াবাসহ মাদক সামগ্রীর বিরুদ্ধে অবিলম্বে দরকার সর্বাত্মক অভিযান চালানো। ইয়াবার চোরাচালান প্রতিহত করতে হবে যে কোন পন্থায়। চাল-ডাল ধরনের পণ্যের মতো যেখানে-সেখানে ইয়াবা যাতে বিক্রি করা সম্ভব না হয় এবং ছাত্রছাত্রীসহ মাদকাসক্তরা যাতে সহজে কিনতে না পারে তার ব্যবস্থা নিতে হবে সুচিন্তিতভাবে। নেশার ক্ষতি সম্পর্কে শিক্ষামূলক প্রচারণা চালাতে হবে গণমাধ্যমে।