শনিবার ২২শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

ছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা,শিক্ষককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা

প্রকাশঃ ০৯ মার্চ, ২০১৬

পাবনা: চাটমোহর চড়ইকোল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করায় শিক্ষক রফিকুল ইসলামকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমা অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বুধবার দুপুরে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেছে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।
অভিযুক্ত শিক্ষক রফিকুল ইসলাম উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের কাটাখালি গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। তিনি চড়ইকোল উচ্চ বিদ্যালয়ে ইংরেজি বিষয়ের সিনিয়র শিক্ষক।
শিক্ষার্থীরা জানায়, শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বেশ কিছুদিন ধরে শ্রেণি কক্ষে পাঠদানের সময় বিভিন্ন অজুহাতে ছাত্রীদের শরীরে হাত দেন। মঙ্গলবার ক্লাস চলাকালীন অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর শরীরে হাত দেন তিনি। বিষয়টি বুধবার সকালে জানাজানি হলে শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা এলাকাবাসী প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়। এছাড়া অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তি দাবিতে চড়ইকোল বাজারে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এ সময় রোষানল থেকে বাঁচতে স্কুল কক্ষে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটকে রাখেন অন্যান্য শিক্ষকরা। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান পুলিশ নিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করেন। এ সময় তিনি ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা শান্ত হয়।
প্রধান শিক্ষক তাপস রঞ্জন তলাপাত্র জানান, তিনি ছুটিতে ছিলেন। বুধবার স্কুলে এসে বিষয়টি তিনি জানতে পারেন। শিক্ষার্থীরা রফিকুলের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগও দিয়েছে। তারা সেটি নিয়ে কিছু করার আগেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে তিনি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানান।
তবে ঘটনার পরপরই স্কুল ছুটি ঘোষণা করা হয়। পরে জরুরি বৈঠকে শিক্ষক রফিকুলকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয় বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান জানান, ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে অভিযুক্ত শিক্ষক রফিকুল ইসলামকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
2015_10_11_17_33_01_uaClYXBz5Fu90vkZrxE7SFvzU4kJ5K_originalউল্লেখ্য, বিগত ২০০৫ সালেও এমন একটি ঘটনায় শিক্ষক রফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করেছিল বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি।