সোমবার ১৭ই জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

নুর হোসেনের স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুদক

প্রকাশঃ ০৯ মার্চ, ২০১৬

নিজস্বপ্রতিবেদকঃ 2015_11_13_02_53_56_4GVydFFTQN5Be2TvtQoH12pVpvTa5f_original: নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেন স্ত্রী রুমা হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। নুর হোসেনের দাখিলকৃত সম্পদের হিসাব যাচাই-বাছাইয়ের জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

বুধবার (৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা শুরু হয়েছে। দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মো. জুলফিকার আলী তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। জিজ্ঞাসাবাদ দুপুর পর্যন্ত চলবে।

নারায়ণগঞ্জের সাবেক কাউন্সিলর ও সাত খুন মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আসলে তা আমলে নিয়ে অনুসন্ধানে নামে দুদক। ২০১৪ সালের ১৯ মে অনুসন্ধান শুরু করার পর নূর হোসেনের নামে-বেনামে প্রায় ৮ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের খোঁজ পায় দুদক।

নুর হোসেন ভারতে পলাতক থাকা পর বাংলাদেশে নিয়ে আসা হলে তার যাবতীয় সম্পদ বিবরণী চেয়ে নোটিশ দেয় সংস্থাটি। পরে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার-২ এর জেল সুপারের মাধ্যমে সম্পদ বিবরণীর দাখিল করেন নুর হোসেন। তবে তার জমাকৃত ওই সম্পদ বিবরণীতে মাত্র এক কোটি ৭৮ লাখ টাকার সম্পদের হিসাব দেখান।

ওই সম্পদ বিবরণীতে তার স্ত্রী রুমা হোসেনকেও একটি বাড়িসহ বেশ কিছু সম্পদের মালিক দেখানো হয়। তাই রুমা হোসেনের নামে উল্লেখ করা সম্পদগুলো সঠিক কি-না তা জানতে গত ২২ ফেব্রুয়ারি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রথম নোটিশ পাঠায় দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা।

ওই নোটিশে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে উপস্থিত না হওয়ায়, গত ২২ ফেব্রুয়ারি তাগাদা দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসির মাধ্যমে তলবি নোটিশ পাঠানো হয়। যে প্রেক্ষিতে আজ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি নুর হোসেনের দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণী যাচাইয়ের জন্য এবং আরো কোনো সম্পদ আছে কি-না তা অনুসন্ধানে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়েছিলেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা মো. জুলফিকার আলী।

১৯৮৫ সালের ট্রাক হেলপার থেকে ১৯৮৭ সালে ট্রাক ড্রাইভার, ১৯৯১ সালে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, ২০১২ সালে নারায়ণগঞ্জের কাউন্সিলর হন নূর হোসেন।

২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনার পর ভারতে পালিয়ে যান তিনি। পরে বাংলাদেশ সরকারের হস্তক্ষেপে তাকে নিয়ে আসা হয়। তিনি এখন গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার-২ এর জেল হাজতে কারাবাস করছেন।