শনিবার ২৯শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৬শে জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

কান ফাটলো ছাত্রীর, ক্ষমা চেয়ে পার পেলেন শিক্ষক

প্রকাশঃ ১২ মার্চ, ২০১৬

দিনাজপুর: শিক্ষকের চপেটাঘাতে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে মুনিরার (১৫) নামে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীর কানের পর্দা ফেটে গেছে। ছাত্রীটি বধির হওয়ার উপক্রম হলেও সালিশ বৈঠকে অভিযুক্ত শিক্ষক ক্ষমা চেয়ে পার পেয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

গত ২ মার্চ দুপুরে পার্বতীপুরের দোয়ানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার দুপুরে বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সালিশে শিক্ষক তাবারক হোসেনকে দায়মুক্তি দেয়া হয়।

শিক্ষার্থী মুনিরা উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের দোয়ানিয়া মাঝাপাড়া গ্রামের মোকছেদুল হকের মেয়ে।

মুনিরার বাবা মোকছেদুল হক জানান, মুনিরা ঠিকমত কানে শুনতে পারছে না। জোরে চিৎকার করে তার কাছে জানতে চাওয়া হয় সে শুনতে পাচ্ছে কী না। এর জবাবে শিশুটি বলে অল্প অল্প শোনা যাচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, ক্লাসে পড়া না পারায় গত ২ মার্চ সহকারী শিক্ষক তবারক হোসেন মুনিরার বাম চোয়াল ও কানে সজোরে চপেটাঘাত (থাপ্পড়) করেন। এতে মনিরার কানের পর্দা ফেটে গিয়ে রক্ত ঝরতে থাকে। বাড়ি ফিরে কানের ব্যথায় ছটফট ও চিৎকার করতে থাকেলে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১০ মার্চ তাকে পার্বতীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। সেখানে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে হাসপাতালের কনসালটেন্ট (নাক, কান ও গলা) ডা. মাহবুবুল আলম চৌধুরী জানান, মনিরার বাম কানের পর্দা ফেটে গেছে। ডান কানেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। দ্রুত উন্নত চিকিৎসা না করা হলে শিশুটি বধির হয়ে যেতে পারে।

মোকছেদুল হক আরও জানান, ঘটনার পর থেকে তার মেয়ের স্কুলে আসা যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। বিষয়টি প্রধান শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটিকে জানানো হলে তারা তাকে মেয়েকে নিয়ে স্কুলে আসতে বলেন। শনিবার সকালে তিনি মুনিরাকে নিয়ে স্কুলে আসলে সভাপতি খাতেবুর রহমান, সহ-সভাপতি মোহসীন আলী, প্রধান শিক্ষক ছাদেকুল ইসলাম, চণ্ডিপুর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড সদস্য আব্দুল কারি ও কমিটির অন্যান্য সদস্যরা বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য চাপ দেন। এক পর্যায়ে অভিযুক্ত শিক্ষক তবারক হোসেন তার হাত ধরে ক্ষমা চান।

অভিযুক্ত শিক্ষক তবারক হোসেন মুনিরাকে চপেটাঘাতের বিষয়টি বাংলামেইলের কাছে স্বীকার করেছেন।

স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছাদেকুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক তবারক হোসেন ভবিষ্যতে আর এ ধরনের ঘটনা না ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দেয়ায় তারা বিষয়টি নিষ্পত্তি করে ফেলেছেন।

পার্বতীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আখতারুল ইসলাম জানান, কোনো অভিভাবক বা পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে তাকে বিষয়টি জানানো হয়নি।2016_03_12_22_38_35_0ANEgQi63wE3dOmf7JB3KrgvN2eQnG_original