মঙ্গলবার ২৫শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২২শে জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

হল প্রভোস্টকে ছাত্রলীগ তুই কার অনুমতি নিয়ে রুমে ঢুকছোস…

প্রকাশঃ ১২ মার্চ, ২০১৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হল শাখা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ওবায়দুর রহমান।

শুক্রবার রাত ৯টার দিকে প্রভোস্ট গণরুমে নবাগত ৪৫তম আবর্তনের শিক্ষার্থীদের খোজঁখবর নিতে গেলে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মীর মশাররফ হোসেন হলের ৪৪তম আবর্তনের ছাত্রলীগ কর্মীরা নবাগত ৪৫তম আবর্তনের শিক্ষার্থীদের নিয়ে হলের গণরুমে র‌্যাগ দিতে বসে। এসময় হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ওবায়দুর রহমান নবীণ শিক্ষার্থীদের ভালোমন্দ খোজঁখবর নিতে গণরুমে প্রবেশ করেন।

প্রভোস্টকে গণরুমে প্রবেশ করতে দেখে অবস্থানরত ছাত্রলীগ কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে প্রভোস্টের দিকে তেড়ে আসে। এরপর জুনিয়র কর্মীরা সিনিয়র নেতাকর্মীদের বিষয়টি জানালে তারাও গণরুমে প্রবেশ করে প্রভোস্টের উপর চড়াও হয়।

অধ্যাপক ওবায়দুল গণরুম থেকে বেড়িয়ে এলে শাখা ছাত্রলীগের উপ-সমাজসেবা বিষযক সম্পাদক বশিরুল হক, সহ-সম্পাদক ইকরাম উদ্দিন অমি, ধর্ম-বিষয়ক সম্পাদক মহিতোষ রায় টিটু, সিনিয়র ছাত্রলীগ কর্মী শামীম শিকদার, আসাদ রিমন (৪০তম আবর্তন), আজিম হোসেন রতন, রবিউল ইসলাম, আদনান সৌম্য (৪২তম আবর্তন), সিফাত হোসেন রাতুল, লায়েব আলী, ইকরাম নাহিদ, জুনায়েদ আহমেদ, আজমল হোসেন (৪৩তম আবর্তন), ছাত্রলীগ কর্মী শাফিন, সিফাত, মামুন, দেলোয়ার হোসেন, রুহীনসহ অন্তত ৪০ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রভোস্টকে ঘিরে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করতে থাকে।

তুই কার অনুমতি নিয়ে গণরুমে ঢুকছোস…, এরকম নানা গালি-গালাজ করতে থাকে এবং প্রায় আধাঘণ্টা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখে তারা। একপর্যায়ে ওই প্রভোস্টকে মারতেও উদ্ধত্য হয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এমন অবস্থায় সাংবাদিক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা সেখানে উপস্থিত হলে অধ্যাপক ওবায়দুর হল ত্যাগ করেন।

এ বিষয়ে প্রভোস্ট ওবায়দুর রহমান বাংলামেইলকে বলেন, ‘আমি নবীনদের খোঁজখবর নিতে গেলে অযথা ছাত্রলীগের কিছু নেতা আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করে।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। দ্রুতই তদন্ত করে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ 2016_03_12_14_15_23_kpZ2HjxFTLyzRLXdboFKAxFAZvE41N_original