শনিবার ২৯শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৬শে জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

পাকিস্তান ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে : নৌমন্ত্রী

প্রকাশঃ ১৫ মার্চ, ২০১৬

(1010_100049শারমীন আক্তারঃ/সাথী আক্তার=চট্ট্রগ্রাম)== পাকিস্তান এখনও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন নৌমন্ত্রী শাজাহান খান।

তিনি বলেন, পাকিস্তান যেভাবে ১৯৫২ ও ১৯৭১ সালে আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল। এখনও ঠিক একইভাবে তারা বাংলাদেশের শান্তি বিঘ্নিত করতে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। বাংলাদেশকে অস্থির করতে নানা ধরনের পায়তারা করছে।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি-১ ইয়ার্ডে ভারত-বাংলাদেশ কোস্টাল শিপিং চুক্তির আওতায় প্রথম পণ্যবাহী জাহাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেওয়ার সময় এ অভিযোগ করেন মন্ত্রী।

কাদের মোল্লা-কামারুজ্জামানকে পাকিস্তানের চর আখ্যায়িত করে নৌমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের শান্তি বিঘ্নিত করাই ছিল পাকিস্তানের মূল উদ্দেশ্য। এ উদ্দেশ্যে এখনও তারা কাজ করে যাচ্ছে। পাকিস্তান হাইকমিশনের এক কর্মকর্তা জাল রূপির ঘটনায় ধরা পড়েছে। জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে পাকিস্তানি হাইকমিশনের এক কর্মকর্তা জড়িত থাকার অভিযোগ উঠলে তাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এসবের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয় যে পাকিস্তান বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কী পরিমাণ ষড়যন্ত্র করছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের ঢাকা শাখা থেকে তারা ৩৫ হাজার কোটি টাকা নিয়ে গেছে, যা বাংলাদেশের সম্পদ। এ অর্থ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে তারা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে হুমকিতে ফেলতে চেয়েছিল। বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও তারা ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। যতই ষড়যন্ত্র করুক না কেন বাংলাদেশ জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের কাছে কখনো মাথা নত করবে না।

আজকের দিনটিকে ঐতিহাসিক দিন আখ্যায়ত করে তিনি বলেন, ২০১৫ সালে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের সময় কোস্টাল শিপিং সহ তিনটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তির আওতায় প্রথম পণ্যবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম থেকে যাত্রা করছে।

মন্ত্রী বলেন, ১৯৭৪ সালে প্রথম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল। এর ৪০ বছর পর আজ একটি চুক্তি বাস্তবায়ন হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সর্ম্পক আরও সুদৃঢ় হলো। ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও মজবুত হলো।

এক সময় পণ্য ও যাত্রী সমুদ্রপথেই পরিবহন হতো উল্লেখ নৌ মন্ত্রণালয়ের সচিব অশোক মাধব রায় বলেন, বর্তমানে যাত্রীরা বিভিন্ন পথে যাতায়াত করলেও জাহাজে পণ্য পরিবহন হচ্ছে। এটি কোস্টাল শিপ চলাচলের ক্ষেত্রে দুই দেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, স্থল বন্দর ব্যবহারের ক্ষেত্রে নানা ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হয়। কিন্তু জাহাজে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে এ সমস্যা হয়না। এতে স্থল পথে পণ্য পরিবহনের চাপ কমবে।

কোস্টাল শিপ চলাচলের মধ্য দিয়ে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরো সুদৃড় হবে বলে উল্লেখ করেন চট্টগ্রামস্থ ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের ফাস্ট সেক্রেটারি রাকেশ রমন।

স্বাগত বক্তব্যে চট্টগ্রাম বন্দরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কমডোর জুলফিকার আজিজ বলেন,ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। কোস্টাল শিপিং চলাচলের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য নুর ই আলম চৌধুরীর পরিবারের মালিকানাধীন নিপা পরিবহন এমভি হারবার-১ দিয়ে পণ্য পরিবহন শুরু করতে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালি কন্টেইনার নিয়ে বৃহস্পতিবার জাহাজটি ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের কৃঞ্চাপাটনামের উদ্দেশে রওনা দেবে।

হারবার-১ জাহাজটি নির্মাণ করেছে চট্টগ্রামের ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড। এই জাহাজে কনটেইনার ও খোলা পণ্য—দুই ধরনের পণ্যই পরিবহন করতে পারবে। এতে সর্বোচ্চ ১৭০ একক কনটেইনার পরিবহন সম্ভব। এর আগে জাহাজটি চট্টগ্রাম-পানগাঁও নৌপথে পণ্য পরিবহন করেছিল।

চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে কলকাতা বন্দরের দূরত্ব ৩৬১ নটিক্যাল মাইল। এ দূরত্ব ১০ নটিক্যাল গতিতে পাড়ি দিতে জাহাজের সময় লাগে দুই দিন। কিন্তু কলকাতার পণ্য শ্রীলঙ্কার কলম্বো বন্দর ঘুরে চট্টগ্রাম আসতে সময় লাগছে সাড়ে পাঁচ দিন। সরাসরি সার্ভিস না থাকায় প্রায় এক হাজার ৩০০ নটিক্যাল মাইল বাড়তি পাড়ি দিয়ে পণ্য বাংলাদেশে আনতে হচ্ছে।

বন্দর চেয়ারম্যান কমডোর জুলফিকার আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী, নৌ মন্ত্রণালয়ের সচিব অশোক মাধব রায়, চট্টগ্রামস্থ ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের প্রথম সেক্রেটারি রাকেশ রমন, ভারতের কৃষ্ণপাটনাম বন্দরের প্রতিনিধি রবিরাম প্রসাদ, জাহাজটি পরিবহনের দায়িত্বে নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান নিপা পরিবহনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিরাজুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য এমএ লতিফ ও ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষ বর্ধন শৃংলা বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তারা আসেননি। অন্যদিকে মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য নুর-ই-আলম চৌধুরী বিশেষ অতিথি হিসিবে উপস্থিত থাকলেও তাঁর বক্তব্য দেওয়ার আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন।