রবিবার ২৩শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২০শে জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

অন্যের বউকে নিয়ে পালানোর সময় আটক, প্রেমিকেএক মাসের কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ

প্রকাশঃ ১৮ মার্চ, ২০১৬

নিজস্বপ্রতিবেদকঃগাইবান্ধা:প্রেমের টানে স্বামীকে ছেড়ে এক সন্তানের জননী লাবনী বেগম (২০) প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন তাদের আটক করে পুলিশে দিয়েছে। পরে তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে বিচারক প্রেমিক মোস্তাফিজার রহমানকে (২৮) এক মাসের কারাদণ্ডন দেন।

বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আহম্মেদ আলী ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মোস্তাফিজার রহমান উপজেলার দরবস্ত ইউনিয়নের দরবস্ত মধ্যপাড়া গ্রামের সাজু মিয়ার ছেলে।

লাবনী বেগম গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের রামপুরা গ্রামের সোহাগ মিয়ার স্ত্রী। তিনি স্থানীয় সাদিয়া ইসলাম কিন্ডার গার্টেন স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। নিঝুম নামে তার দেড় বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। স্বামীর সংসার ও শিশু সন্তান থাকার পর তিনি মোস্তাফিজার রহমানের সঙ্গে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। তাদের প্রেম এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে যে, তারা একে অপরকে ছাড়া এক মুহূর্তের জন্যও কিছুই কল্পনা করতে পারেন না।

এরই এক পর্যায়ে লাবনী বেগম তার স্বামী সোহাগকে সঙ্গে নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুর বারোটার দিকে গোবিন্দগঞ্জ পৌর মার্কেটে কেনাকাটা করতে আসেন। এ সময় লাবনী বেগম তার প্রেমিক মোস্তাফিজারের সঙ্গে একটি সিএনজিতে উঠে রংপুরের দিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

খবর পেয়ে সোহাগের কয়েকজন বন্ধু মহাসড়কের কোমরপুর নামক স্থানে সিএনজিটি থামিয়ে তাদের নেমে নেয়। সোহাগ দ্রুত কোমরপুর বাজারে আসলে এ নিয়ে তার সঙ্গে মোস্তাফিজারের কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় লোকজন তিনজনকেই আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে সোনারবাংলা৭১.কমকে জানান, রাত ১১টার দিকে উভয়কে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় লাবনী স্বেচ্ছায় তার সঙ্গে যাওয়ার কথা স্বীকার করলেও বিচারক দণ্ডবিধির ৩৫৭ ধারা মোতাবেক মোস্তাফিজারকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। একইসঙ্গে লাবনীর স্বামী সোহাগেরও এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।