রবিবার ২৩শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২০শে জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

তিতাসের দায়িত্বহীনতা এবং বনানীর ৬তলা ভবনে আগুন

প্রকাশঃ ১৮ মার্চ, ২০১৬

নিজস্বপ্রতিবেদকঃ রাজধানীর বনানীতে গ্যাসের লেকেজ থেকেই আগুনের সূত্রপাত এবং এতো ক্ষয়ক্ষতি বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।ভবনের বাসিন্দাদের অভিযোগ আমরা তিতাসকে গ্যাস লিকেজ হওয়ার বিষয়টি বহুবার জানিয়েছি কিন্তু তারা কোনো সারা দেয়নি।যার কারণে আজ এতো বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হলো।এব্যাপারে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসা রাজধানীর উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হকের কাছে নালিশ করা হলে তিনিও তিতাসের আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, আমি তিতাসের এমডিকে ডাকবো। বিষয়টি জানার চেষ্টা করবো।যদি এখানে তিতাসের কোনো অবহেলা থাকে তাহলে তা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক। তিনি ফায়ার সিার্ভিস কর্মীদের কাজ তদারক করেন এবং পাশের ভবনের ছাদ থেকে হ্য্যান্ড মাইকে কথা বলে আটকা পড়াদের সাহস দেওয়ার চেষ্টা করেন। আগুন নেভার পর তিনি ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সঙ্গে ওই ভবনের ভেতরেও যান। ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা সোনারবাংলা৭১.কমকে বলছেন, বিষয়টি এখনই বলা যাবে না। তবে ভবনে নিচে আমরা গ্যাস লিকেজের প্রমাণ পেয়েছি। তদন্ত করলে বিষয়টি বের হয়ে আসবে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আগুনে বেশ কয়েকজন আহত হন। তাদের মধ্যে তিনজনকে গুলশানের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তিতাসের দায়িত্বহীনতার ব্যাপারে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, ঐ এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে ওয়াসা রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কাজ করছিল এবং এর ফলে গ্যাস লাইনের কিছু ক্ষতি হয়েছে।ঐ পাইপ দিয়ে গ্যাস লিকেজ হচ্ছিল সম্ভবত।মন্ত্রী বলেন, আমি খবর পেয়ে রাত তিনটায় তিতাসের এমডির সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেছি।তিতাসের এমডি জানিয়েছে, এ ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে আগামী রবিবার কমিটি গঠন করা হবে।কমিটির রিপোর্টের পর দায়ী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ওয়াসার রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কারনে গত কয়েকদিন ধরেই এলাকায় গ্যাসের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। বিষয়টি আমরা ওয়াসা ও তিতাসকে জানিয়েছি বহুবার কিন্তু তারা আমাদের ডাকে সারা দেয়নি।তারা নানা টালবাহানা করেছে।

বনানী থানার এসআই জহিরুল ইসলাম জানান, আহতদের মধ্যে একজন দগ্ধ, বাকিরা তাড়াহুড়া করে নামতে গিয়ে আহত হয়েছেন।

ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান সোনারবাংলা৭১.কমকে জানান, রাত পৌনে ২টার দিকে বনানী ২৩ নম্বর রোডের ছয় তলা ওই ভবনে আগুন লাগে।

বাড়ির তৃতীয়তলা থেকে ষষ্ঠ তলা পর্যন্ত আগুন ছড়িয়ে পড়লে সেসব ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা আতঙ্কে ছাদে উঠে যান এবং সেখানে আটকা পড়েন।

পরে ছাদ থেকে অন্তত ২৫ জনকে নামিয়ে আনা হয়। আহতদের পাঠানো হয় হাসপাতালে।

ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট সাড়ে ৩টার দিকে ওই বাড়ির আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে বলে এ বাহিনীর পরিচালক (অপারেশন) মেজর একেএম শাকিল নেওয়াজ সাংবাদিকদের জানান।

তিনি বলেন, “আগুন লাগার কারণ তদন্ত শেষে বলা যাবে। তবে ভবনের নিচের গ্যাস লাইনের লিকেজ পাওয়া গেছে।”

ভবনের বাসিন্দার জানান, রাত পৌনে ২টার দিকে হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দে তাদের ঘুম ভেঙে যায়। তারপর আগুন দেখে ছাদে উঠে যান।

পঞ্চম তলার এক বাসিন্দা জানান, বিস্ফোরণের শব্দে ঘুম ভেঙে তিনি আগুন দেখতে পান। এরপর দেখেন ফ্ল্যাটের সব জানালার কাচ ভেঙে গেছে, জিনিসপত্র ছড়ানো ছিটানো।

বেশ কয়েকদিন ধরেই ভবনের নিচে স্যুয়ারেজের নালা থেকে ভলকে ভলকে গ্যাস বের হচ্ছিল এবং গ্যাসের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল বলে তারা অভিযোগ করেন।

ওই ভবনের বাসিন্দা এক নারী জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকেও তারা ফোন করে তিতাস কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে বলেন। কিন্তু ‘লেবার’ নেই, এই অজুহাতে কর্তৃপক্ষ লোক পাঠায়নি। পরে তিতাস গ্যাসের উপ পরিচালক হারুণ অর রশিদও সাংবাদিকদের লোক সঙ্কটের কথা বলেন।অবশ্য রাত ৩টার দিকে তিতাস গ্যাসের একটি গাড়ি এসে ওই ভবনের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে যায়।
banani__106053