বৃহস্পতিবার ২৭শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৪শে জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

অচল ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলজিইডি শীর্ষ দুই কর্মকর্তা বদলি

প্রকাশঃ ২৩ মার্চ, ২০১৬

জেলা প্রতিনিধিঃ 2015_10_18_14_29_58_BdlMSVo2ttUN9NdCgvJa4jyajHxeDO_originalঅচল ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। নির্বাহী প্রকৌশলী বনাম প্রকেীশলী দ্বন্দ্বে গত পাঁচ মাস ধরে স্থবির সব কর্মকাণ্ড। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলছে ফ্রি-স্টাইলে। ঠিকাদাররা কাজ করছে নিজের মর্জিমতো। তদারকি না থাকায় নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। কোটি কোটি টাকার কাজ হচ্ছে নামমাত্র। এর জন্য প্রকৌশলী কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক বিরোধ বড় কারণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। ঠিকাদাররা এর-ওর পক্ষ নিয়ে ফায়দা লুটছেন। যেসব ঠিকাদারের কাজ গড়ের মাঠ তারাই নির্বাহী প্রকৌশলীকে ঘিরে আছে। করছে দলাদলি। তবে শেষ পর্যন্ত বিদেয় নিতে হলে নির্বাহী প্রকৌশলী আর সিনিয়ন প্রকৌশলীকে। গতকাল সোমবার এ দু-জনের বদলির আদেশ হয়। এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী শ্যামা প্রসাদ অধিকারী স্বাক্ষরিত এই বদলির আদেশ অনুসারে নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার মো. মাহবুব হোসেনকে বৃহত্তর নোয়াখালী (নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর জেলা) পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২ এর সদর দপ্তরে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে বদলি করা হয়েছে। তার স্থানে আসছেন বৃহত্তর নোয়াখালী পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২ এর সদর দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী জে এম আজাদ হোসেন। আর সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. মামুন খানকে বদলি করা হয়েছে বৃহত্তর ফরিদপুর গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প ২য় পর্যায় এর সদর দপ্তরের সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে। তার স্থলে আসছেন ময়মনসিংহ সদর উপজেলার প্রকৌশলী মো. ওয়াহিদুজ্জামান। এর আগে ২২শে ফেব্রুয়ারি তাৎক্ষণিক বদলি করা হয় ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান মো. এমদাদুল হককে। এমদাদুল হক ২০০৭ সালের ১১ই জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যোগ দেন। প্রায় ৯ বছর এখানে ছিলেন। ঠিকাদাররা তার মাধ্যমে বর্তমান ও আগের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে গোপন লেনদেন সম্পন্ন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এলজিইডির সূত্র জানিয়েছে- খন্দকার মো. মাহবুব হোসেন গত বছরের ২৭শে অক্টোবর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। এরপর এই কয়মাসে অফিসের পিয়ন থেকে শুরু করে অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। প্রকৌশলীদের গালাগাল করা তার নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে ওঠে। পিয়ন দিয়ে এক প্রকৌশলীকে ঘাড় ধরে অফিস থেকে বের করে দেয়ার নির্দেশও দেন তিনি। পিয়নদের বাসায় ডেকে নিয়েও গালাগাল করেন। সহকারী প্রকৌশলী জুলফিকার হক চৌধুরী গত প্রায় দু-মাস ধরে নির্বাহী প্রকৌশলীর কক্ষে যান না। জুলফিকার বলেন- কেন যাচ্ছি না তা আমি নিজেও জানি না। এটি বুঝতে পারলে ভালো হতো। ১৬ই ডিসেম্বর পালনে আগের দিন এলজিইডি অফিসে আলোকসজ্জা করা হয়। আলোকসজ্জা দেরিতে জ্বলেছে এই অভিযোগে উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ফেরদৌসকে গালাগাল করেন নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুব। পিয়ন ডেকে বলেন তারে গলাধাক্কা দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেও। সরাইল, নবীনগর ও বিজয়নগর উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গেও দুর্ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে মাহবুবের বিরুদ্ধে। সরাইল উপজেলা প্রকৌশলী এমদাদুল হক বলেন- রাগতো তারা করতেই পারেন। নির্বাহী প্রকৌশলীর পিয়ন উৎপল কুমার রায়কে গালাগাল করা হয়েছে অফিসের কথা বাইরে বলে দেয় এই অভিযোগে। সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলীর পিয়ন ইকবালকে নির্বাহী প্রকৌশলী তার বাসায় ডেকে নিয়ে গালাগাল করেন। তবে সবচেয়ে আলোচিত নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলীর বিরোধ। তাদের বিরোধে স্থবির হয়ে পড়ে এলজিইডি। সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. মামুন খান বলেন- আমার কি দোষ সেটি আমি জানি না। অফিসের সূত্র জানায়- মামুন নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছের এক ঠিকাদারের লোককে বিল পাওয়ার পর বলেছিলেন এখনতো দিনকাল ভালোই যাচ্ছে। ওই ঠিকাদার গিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীকে একথা বলে। এমন আরও অনেক ঘটনা দু-জনের বিরোধ পোক্ত করে। এরপর নির্বাহী প্রকৌশলী বিভিন্ন অজুহাতে সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. মামুন খানকে পরপর ৩টি শোকজ করেন। অভিযোগ রয়েছে প্রধান প্রকৌশলীর কাছে বিভিন্ন ঠিকাদারকে দিয়ে ফোন করিয়ে মামুনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করান নির্বাহী প্রকৌশলী। ঠিকাদারের ফোন থেকে মামুনের বিরুদ্ধে এসএমএস-ও লিখে পাঠান নির্বাহী প্রকৌশলী নিজেই। একের পর এক এসব ঘটনায় গত মাসে মামুনের বদলির আদেশ হয় বাঞ্ছারামপুরে। পরে তা আবার স্থগিত হয়। এই বদলির আদেশ হওয়ার পর নির্বাহী প্রকৌশলী তার কাছের ঠিকাদারদের নিয়ে অফিসে তার কক্ষে বসে মিষ্টি খান। নূরুল আমিন নামের এক ঠিকাদার মিষ্টি নিয়ে আসে। পরে স্থানীয় ২/১টি সংবাদপত্রে মামুনের বদলিতে এলজিইডিতে স্বস্তি এমন সংবাদ প্রকাশেরও ব্যবস্থা করে ওই ঠিকাদার। এলজিইডির ব্রাহ্মণবাড়িয়া অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ১৮। এর বাইরে বিভিন্ন প্রকল্পের স্টাফরাও আছে। কিন্তু অফিস প্রধানের এমন তৎপরতায় কাজে গতি হারা সবাই। এ বিষয়ে কথা বলার জন্য নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার মো. মাহবুব হোসেনের মোবাইল নম্বরে গতকাল দুপুর ৩ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত আট বার ফোন করেও কোনো সারা পাওয়া যায়নি।