শনিবার ২২শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৯শে জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

কলেজ ছাত্রী সোহাগী হত্যা ঘটনায় কুমিল্লা জুড়ে প্রতিবাদের ঝড়

প্রকাশঃ ২৩ মার্চ, ২০১৬

নিজস্ক প্রতিবেদক: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের মেধাবী ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুকে ধর্ষণ করে গলাকেটে হত্যার প্রতিবাদে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারের আয়োজনে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী-সংস্কৃতিকর্মী এই প্রতিবাদী বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নেয়। ভিক্টোরিয়া কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ সমাবেশে অংশ নেয়। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। সেনানিবাসের ভেতরেই সোহাগীর হত্যাকা- কিছুতেই মানতে পারছে না তার সহপাঠীরা। বন্ধুদের প্রশ্ন ‘ক্যান্টনমেন্টেও মানুষ খুন হয়! বান্ধবী মানুছরা সাথী তার ফেইসবুক স্ট্যাটাসে সোহাগী সম্পর্কে লিখেছেন, ‘সন্ধ্যা ৫ টায় বের হয়েছ, প্রাইভেট পড়িয়ে আসার পথে, পিছন থেকে আঘাত, নাক বরাবর ঘুষি, চুলটেনে ছিরে ফেলেছে। বাবা খুঁজতে বের হয়েছে রাস্তায়। তার (সোহাগী) জুতা চুল, একটু দূরে মোবাইলটা, আর একটু দূরে তনুর লাশ, বাবা চিৎকার করে বলল মা, মা, মা, মা আমার।’ মানুছরা সাথী তার ফেসবুকে আরো লিখেছে, ‘ঘর থেকে বের হওয়ার সময় সোহাগী তার মাকে বলেছিল, মা টেইলারের কাছ থেকে আমার নতুন জামাটা আজ নিয়ে আইসো, আমি কাল নতুন জামা পরে কলেজ যাবো।’

এ সময় ভিক্টোরিয়া কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আব্দুর রশীদ বলেন, ‘তনু আমাদের মেয়ে। আমরা সবাই আমাদের মেয়ের হত্যার বিচার চাই। যে নির্মমভাবে তনুকে হত্যা করা হয়েছে। এর বিচার করতে হবে।’
ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারের প্রধান উপদেষ্টা ও শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম পাটোয়ারি বলেন, ‘নৈতিক জায়গা থেকেই এই আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করছি। এই হত্যার প্রতিবাদ করতে হবে সবাইকে।’
ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারের সাবেক সভাপতি আল আমিন বলেন, ‘কুমিল্লা থেকে তনু হত্যার প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। এই প্রতিবাদ সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। তনু কুমিল্লার মেধাবী সংস্কৃতিকর্মী। খুন হওয়ার দুই দিন আগে ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটারের বার্ষিক বনভোজনে শ্রীমঙ্গল গিয়েছিলাম আমরা। তাকে এমন নৃসংশভাবে খুন করা হয়েছে। এটা মানতে পারছি না।’
আল আমিন জানান, মঙ্গলবার বিকেলে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে সংস্কৃতিকর্মী ও সাধারণ মানুষ জমায়েত হয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করবে। সেখানে সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি উপস্থিত থাকার জন্য।
এদিকে তনু হত্যার প্রতিবাদে ঢাকার শাহবাগে মঙ্গলবার বিকেলে প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজন করা হয়েছে তরুণ চলচ্চিত্র নির্মাতা শ্যামল শিশির। তিনি বলেন, ‘বিকেল ৫টায় তনু হত্যার প্রতিবাদে শাহবাগে জমায়েত হব আমরা। সবাইকে আহ্বান করছি তনু হত্যার প্রতিবাদে শাহবাগে আসার জন্য।’
গত রবিবার (২০ মার্চ) রাত ১০টায় কুমিল্লা ময়নামতি সেনানিবাসের অলিপুর
এলাকায় একটি কালভার্টের কাছ থেকে পুলিশ নিহত তনুর লাশ উদ্ধার করে।
কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম সোনারবাংলা৭১.কমকে College20160322065428বলেন, লাশের মুখের বাঁ পাশে আঁচড় ও কানে নখের দাগ রয়েছে।
কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেছেন, ‘আমি ঘটনাস্থল গিয়েছি। সোহাগীর মরদেহ দেখে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে ধর্ষণ ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে।’
সেনানিবাসের মতো সুরক্ষিত এলাকায় এমন নির্মম ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তনু হত্যার বিচার চেয়ে অনেকেই স্ট্যাটাস দিয়ে জোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
এদিকে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে সোলেমান ফয়সালের স্ট্যাটাস- ‘এই সেলফিটা যেন সারা জীবনের স্মৃতি হয়ে রয়ে গেল। গত ১৮ তারিখে আমি, মোর্শেদ ভাই আর তনু আপু তুলেছিলাম। একটু আগে খবর শুনতে পেলাম তনু আপু না কি আর বেঁচে নেই। তাকে না কি খুন করা হয়েছে।‘
সোহাগীর এক ফেইসবুক বন্ধু ও সহপাঠী আশিক খান ফেইসবুকে কমেন্ট লিখেছেন, ‘তনু ওরা তোমাকে বাঁচতে দিল না। তোমার গান নাচ আমার অনেক ভাল লাগতো (ভিক্টোরিয়া কলেজ থিয়েটার) তে যখন কোনো অনুষ্ঠান হত শত কাজ ফেলে আমি দেখতে যেতাম। আর সবচেয়ে ভাল লাগতো তোমার মুখের ভাইয়া কথাটা। ওরা তোমার লাশটাও দেখতে দিল না। ঘুম থেকে ওঠে যখন শুনলাম তুমি আর নেই, মনে হলো আকাশটা আমার মাথায় পড়লো। তাই আমি বারবার বলতাম আমি চিৎকার করে কাঁদিতে চাই কাদিতে পারি না।।।।’
সোহাগীর বান্ধবী নিলাম্বরী রাকা ফেইসবুকে স্ট্যাটাস লিখেছেন, ‘তনু হত্যার বিচার চাই।‘ তিনি সোহাগীর কয়েকটি ছবি আপলোড করে তার সাথে আরেকটি স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘ছবি গুলি দেখছিলাম আর ভাবছিলাম তোকে একটা কল দিব। আর বলব যে, তুই আসলেই সবার থেকে আলাদা। সবাই নিজের ছবি দিয়ে ভরিয়ে রেখেছে। আর তুই প্রকৃতিকে ভুলিস নি। আর বলা হল না। তোকে নিয়ে দেখা স্বপ্নগুলো আর হল না। তনু মাফ করে দিস আমাদের। ভালো থাকবি তুই।‘